প্রথম পাতা » শ্রীপুর » লোপা আত্মহনন মামলার অভিযুক্ত জিয়া গ্রেফতার

লোপা আত্মহনন মামলার অভিযুক্ত জিয়া গ্রেফতার

লোপা আত্মহনন মামলার অভিযুক্ত জিয়া গ্রেফতার

শ্রীপুর সংবাদদাতা : কলেজ ছাত্রী লোপা আত্মহনন মামলার প্রধান অভিযুক্ত বখাটে যুবক জিয়াউর রহমানকে বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
মাগুরার শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, জিয়াউর রহমানের যৌন হয়রানীর শিকার হয়ে শ্রীপুরের কাজলী গ্রামের বাসিন্দা লোপা গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার শেরে বাংলা নগর এলাকার একটি মেসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এই আত্মহননের জন্য লোপার বাবা সলতানুল ইসলাম জিয়া ও তার সহযোগী শাবনুরকে দায়ী করে শেরেবাংলানগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলার গ্রেফতারি পারোয়ানা মাগুরা শ্রীপুর থানায় পৌছলে বৃহস্পতিবার রাতে জিয়াকে মাগুরার শ্রীপুরের কাজলী গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। তাকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে মাগুরার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট ইমতিয়াজুর রহমান জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে এ বিষয়ে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে লোপার বাবা সুলতানুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে লোপা ঢাকায় বদরুন্নেছা করেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়াকালিন ছুটিতে প্রায়ই তার নিজ গ্রাম কাজলীতে আসতো। কাজলী গ্রামের নজরুল ইলামের বখাটে ছেলে জিয়া কাজলী বাজারে মুক্তা ডেকরেটর নামে একটি দোকানে বসতো। ওই দোকানের পেছনেই তার বাসা। সেই সুবাদে জিয়া নানা কৌশলে লোপার অৎান্তে তার কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারন করে লোপাকে সরাসরি নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে ভয় দেখায়। লোপা বিষয়টি প্রথমে ভয়ে কাউকে না বলে ঢাকায় চলে যায়। কিন্তু জিয়া সেখানেও শাবনুর নামে এলাকার একটি মেয়ের মাধ্যমে কুপ্রস্তাব দেয় ও মোবাইলে ওই ছবি-ভিডিও এস এম এস করে। এসময় লোপা বিষয়টি তার পরিবারের কাছে জানায়। বিষয়টি জেনে বাবা সুলতানুল ইমলাম তাৎক্ষনিকভাবে গত বছরের ২৫ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি জিডি করে। এ ঘটনা জানতে পেরে জিয়া অব্যাহত হুমকীর এক পর্যায়ে সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর লোপাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও ইন্টারনেটে ওই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখায়। জিয়ার হুমকীতে ভয় পেয়ে ও অপমান সইতে না পেরে একইদিন সন্ধ্যায় লোপা ঢাকায় শেরেবাংলা নগর এলাকার একটি মেসে গলায় ওড়না জড়িয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। ওই মেসে থেকেই লোপা এইচ এস সি পাশের পর ঢাকার তিতুমির কলেজে অনার্স ভর্তিও অপেক্ষা করছিল। দু’দিন পর ১২ ডিসেম্বর ছিল তার ভর্তির তারিখ। এদিকে তার এই আত্মহননের খবর পেয়ে বাবা সুলতানুল সহ পরিবারের অন্য্যরা দ্রুত ঢাকায় যান ও লোপার লাশ মাগুরায় নিজ গ্রামে আসেন। সেই সাথে প্ররোচনার দায়ে সুলতাননুল ইসলাম জিয়া ও শাবনুরকে অভিযুক্ত করে শেরেবাংলা থানায় মামলা করেন। এই মামলা সুত্রেই শ্রীপুর পুলিশ জিয়াকে আটক করে। শাবনুর এখনো পলাতক। তিনি জিয়া ও শাবনুরের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com