প্রথম পাতা » Featured » পৈতে পরা মিলন এখন জেলহাজতে

পৈতে পরা মিলন এখন জেলহাজতে

পৈতে পরা মিলন এখন জেলহাজতে

মাগুরা প্রতিদিন ডেস্ক: কাঞ্চন নগরের পৈতা পরা মিলন এখন জেলহাজতে। সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর মাগুরা ডিবি পুলিশের হাতে আটক হলেন তিনি।

মাগুরা ডিবি পুলিশ জেলার সদর উপজেলার চেঙ্গারডাঙ্গা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে আটকের পর বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করলে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মিলনকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন রায়। আইসিটি অ্যাক্ট ও প্রতারণার অভিযোগে আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে তিনি জানান।

মিলনের প্রকৃত নাম আশরাফুল আলম মিলন। তিনি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার লুৎফর রহমানের ছেলে। ধর্ম ও পরিচয় লুকিয়ে মাগুরায় বিয়ের পর মিলন চক্রবর্তী নাম ধারণ করে সে চারবছর ধরে বসবাস করে আসছিল।

এ বিষয়ে মাগুরা ডিবি পুলিশ ইন্সপেক্টর ইনামুল হক জানান, আশরাফুল আলম মিলনের গ্রামের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া এলাকায়। এক সময় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এলাকার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করলেও সে প্রতারণার মাধ্যমে অনেককে ঠকিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। বছর ছয়েক আগে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে মাগুরা সদর উপজেলার চেঙ্গারডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের সাথে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরই সূত্র ধরে মিলন ২০১৩ সালে নিজেকে ব্রাহ্মণ স¤প্রদায়ভূক্ত এবং নিজের নাম মিলন চক্রবর্তী জানিয়ে ডাক্তার গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের অনার্স পড়ুয়া মেয়ে মিতা বিশ্বাসকে বিয়ে করে। এরপর থেকেই সে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিল। অথচ ডুমুরিয়াতেও তার স্ত্রী ও একটি সন্তানও রয়েছে।

তিনি আরো জানান, শুধু তা-ইই নয়, পুরোহিত সেজে আশরাফুল আলম মিলন মাগুরার চেঙ্গারডাঙ্গা গ্রামে অন্তত ডজনখানেক হিন্দু পরিবারের বিয়ে ও পূজা-অর্চনায় পৌরহিত্ব করেছে।

মিলনের প্রতারণার বিভিন্ন ধরন উল্লেখ করে ডিবি পুলিশ ইন্সপেক্টর ইনামুল হক বলেন, ‘এখানেই শেষ নয়। শ্বশুরবাড়ির পাশে মৃগাঙ্ক বিশ্বাসের ছেলে চয়ন বিশ্বাসকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে আশরাফুল আলম মিলন তার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল শাখার ছাত্র চয়ন বিশ্বাস সেনাবাহিনীর চাকরিটি ভুয়া বুঝতে পেরে ২৯ জানুয়ারি মাগুরা পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগপত্র দেন। এরপর ডিবি পুলিশ বুধবার প্রতারক মিলনকে তার মাগুরার শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করে।

পুলিশ ইন্সপেক্টর ইনামুল হক জানান, প্রতারক আশরাফুলের বাবা পেশায় একজন পোস্টমাস্টার ছিলেন। বাড়ির অবস্থা ভালো না হলেও ভারতে আশরাফুল আলম মিলন একজন ‘কোটিপতি ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে তিনি হিন্দু পরিচয়ে যশোরের অভয়নগর এলাকার ঠিকানায় তার পাসপোর্ট করলেও ২০০৯ সাল থেকে সে ভারতে গোপনে আসা-যাওয়া আসা করতো। সেখানে তার বাড়ি ও গাড়িও রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন রায় জানান, প্রতারক আশরাফুল আলম মিলন বিগত সময়ে অন্ততপক্ষে ৫০ বার ভারতে যাওয়া-আসা করেছেন এবং ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তার একাধিক অ্যাকাউন্টও রয়েছে।

তিনি আরো জানান, আশরাফুল আলম মিলন বড় কোনো ধরনের অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা সে বিষয়ে জানতে রিমান্ডে আবেদন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com