প্রথম পাতা » Featured » মাগুরার ছেলে ডক্টর চয়ন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত

মাগুরার ছেলে ডক্টর চয়ন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত

মাগুরার ছেলে ডক্টর চয়ন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত

প্রতিদিন ডেস্ক : মাগুরার ছেলে মেডিকেলের ছাত্র চয়ন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কার্য নির্বাহী সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন। সোমবার ঘোষিত ২৮তম সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে সহ-সভাপতির মত গুরুত্বপূর্ণ পদটি পেয়েছেন মো তোফাজ্জেল হোসেন চয়ন।

মাগুরা শহরের ভায়না গ্রামের বাসিন্দা মাগুরা জেলার বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের ছেলে চয়ন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র নেতা হিসেবে তিনি সুনামের সাথে রাজনীতি করে আসছেন।

চয়নের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে কৃতিত্বের সাথে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয় সে। তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছিল শিবির ও বিএনপি পন্থীদের আথড়া। পূর্ব থেকেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি প্রবল ভাললাগার কারণে মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম দিন থেকেই শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এ বিষয়ে চয়ন বলেন, ২০০৬ সালে তৎকালীন বি.এন.পি জামাত সমর্থিত অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যখন কলেজ প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র বি.এন.পি জামাত জোট সমর্থিত প্রশাসন এবং ছাত্রদল ও ছাত্র-শিবিরের চোখ রাঙ্গানিকে উপেক্ষা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্র বন্ধুদের পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের ছোট ভাইদেরকে সু-সংগঠিত করার মাধ্যমে ছাত্রলীগের পতাকা তলে সকল মুজিব প্রেমী, অকুতোভয় মুজিব সেনাদের একত্রিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করি। একদিকে কলেজ প্রশাসন থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের বি.এন.পি-জামাত এর দোসরদের চোখ রাঙ্গানি, বিভিন্ন ধরনের হুমকি অন্যদিকে প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতন। তারপরও সকল বাঁধা বিপত্তি মোকাবিলা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে দীর্ঘদিন পরে প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করি। তখন থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি রাজনীতিই আমার একমাত্র নেশা।

তোফাজ্জল হোসেন চয়ন আরো জানান, ২০০৭ সালে ১/১১ পরবর্তী জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি। ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগে মুজিব সৈনিকরা ধীরে ধীরে যখন সুসংগঠিত হচ্ছে ঠিক তখনই ২০০৮ সালের ১১ই এপ্রিল ভোররাতে ছাত্রদল-ছাত্র শিবিরের হায়েনারা সকল ছাত্রলীগের কর্মীদের উপর আতর্কিত হামলা করে। ঐ বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়ে পরবর্তী ২৮ দিন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। তবুও আমরা ছাত্রলীগের মুজিব প্রেমী সৈনিকরা এতটুকু পিছপা না হয়ে পুনরায় সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পূর্বের তুলনায় আরো বেশী সক্রিয় হই। যার দরুন তৎকালীন বি.এন.পি জামাত সমর্থিত শিক্ষকদের প্রতিহিংসার কারণে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষা দিতে ব্যর্থ হই। তবুও বিন্দুমাত্র আতঙ্কিত না হয়ে ছাত্রলীগের পতাকা তলে দীপ্ত পদক্ষেপে নিজেদের সংগঠিত করতে থাকি। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্যে দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চূড়ান্ত পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়। অমানুসিক নির্যাতন, বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েও অন্তরে শুধু মাত্র প্রবল মুজিব প্রেম থাকার কারণে কখনও একমুহূর্ত পিছপা হইনি।

চয়ন বলেন, সেই ২০০৬ সালের ক্যাম্পাসের প্রথম দিন থেকে অদ্যবধি মুজিব আদর্শকে আরো বিস্তৃত করতে, দেশরত্ম জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে বাঙ্গালী জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্ঠা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে এই বাংলার মাটি থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের চিরতরে নির্মূল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এবং সেই সাথে প্রতিজ্ঞা করছি যে, জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে মুজিব আদর্শকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে সদা প্রস্তুত থাকব।
সহ-সভাপতি পদে আসীন হওয়ার আগে চয়ন সক্রিয় রাজনীতির সুবাদে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখার কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের কার্যকরী সংসদের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন। এ সময় তিনি প্রিতম-রোজেন নেতৃত্ত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম কার্যকরী সদস্য মনোনীত হন। তিনি মুক্তাদীর-জুয়েল নেতৃত্ত্বাধীন কমিটির কার্যকরী কমিটির ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হন এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি প্রার্থী থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদের বদিউজ্জমান-সোহাগ এবং সিদ্দীকী নাজমুল আলম নেতৃত্ত্বাধীন কমিটির উপ-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। শেষ পর্যন্ত ওই একই পদে থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে দিন রাত নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহি সংসদের গুরুত্বপূর্ণ এ পদটিতে মাগুরার ছেলে চয়নকে নির্বাচিত করায় কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে মাগুরা জেলা ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইউনিটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃ্ন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com