প্রথম পাতা » Featured » মাগুরায় ৬৪ বছরেও নির্মিত হয়নি স্বতন্ত্র শহীদ মিনার

মাগুরায় ৬৪ বছরেও নির্মিত হয়নি স্বতন্ত্র শহীদ মিনার

মাগুরায় ৬৪ বছরেও নির্মিত হয়নি স্বতন্ত্র শহীদ মিনার

প্রতিদিন ডেস্ক: ভাষা আন্দোলনের ৬৪ বছরেও মাগুরায় ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোন স্বতন্ত্র শহীদ মিনার। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মাগুরাবাসী। অন্যদিকে জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা কলাগাছ বা বাঁশ, কাঠের তৈরী অস্থায়ী শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে আসছে।

মাগুরার ভাষা সৈনিক পুত্র কবি ও সাংস্কৃতি কর্মী সাগর জামানসহ একাধিক মাগুরাবাসী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্ম বলিদানের মাধ্যমে বাংলা মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। মাগুরার মানুষ বার-বার ভাষা শহীদদের স্মরণে জেলা সদরে একটি শহীদ মিনার নির্মানের দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ৬৪ বছরেও মাগুরায় ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোন স্বতন্ত্র বা জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। যে কারনে
মাগুরাবাসী বাধ্য হয়েই প্রতি ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন। মাগুরার ভাষা সৈনিক অব: প্রধান শিক্ষক খান জিয়াউল হক জানান, বাঙ্গলাকে রাষ্টভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে অন্দোল সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল। তিনিসহ মাগুরার অনেক ভাষাসৈনিক জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ভাষা শহীদদের রক্তে বিনিময়ে বাংলা রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। ভাষা অন্দোলনের পথ ধরেই পরবর্তীতে মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় মাগুরা জেলায় যেমন ভাষা শহীদদের স্মরণে তৈরী হয়নি স্বতন্ত্র কোন শহীদ মিনার, তেমনি স্বীকৃতি মেলেনি ভাষা শহীদদের। তিনি দাবী করেন মাগুরায় ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার নির্মাণ করে সেখানে জেলার ভাষা সৈনিকদের নাম লিপিবদ্ধ করা হোক।

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুদ্দোহা জানান, মাগুরা জেলার ৫০২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শতকরা ৫ ভাগ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে। ছোট বেলা থেকে শিক্ষার্থীদের দেশত্ববোধের চেতনতা জাগ্রত করতে হলে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মান আবশ্যক। তিনি স্কুল ম্যানেজিং কমিটি স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের উদ্বুদ্ধ করে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার তৈরীর উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

অন্যদিকে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী তবিবুর রহমান জানান, জেলার সর্বমোট ৩১৬ স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসার মধ্যে ৮০ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। বরাদ্দ পেলে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। যদিও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আকরাম হোসেন জানান, সব শিক্ষা প্রতিষ্টানে বাধ্যতামূলক শহীদ মিনার নির্মানের জন্য উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা রয়েছে।

মাগুরা শহরতলীর নান্দয়ালী ডিইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম আনিসুর রহমান জানান, তার বিদ্যলয়টি ৫০ বছর আগে প্রতিষ্টিত। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। পাশাপাশি স্থাপিত নান্দয়ালী প্রায়মারী স্কুলেও শহীদ মিনার নেই। সদরের শ্রীমন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা বাসনা রায় ও ছাত্রী ইয়ামমিন জানায়, তাদের বিদ্যালয়তো বটেই আসপাশের বিদ্যালয়গুলোতেও কোন শহীদ মিনার নেই। যে কারনে প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারিতে তারা বিদ্যালয় মাঠে কলা গাছ, বাঁশ, কাঠ ও কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। পৌর মেয়রা খুশিদ হায়দার টুটুল জানান, বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করে অচিরেই মাগুরা শহরে ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি  স্বতন্ত্র শহীদ মিনার তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com