প্রথম পাতা » Featured » প্রবীন শিক্ষিকা বিভাবতীর সকাল হলেও দুপুর গড়ায় না!!

প্রবীন শিক্ষিকা বিভাবতীর সকাল হলেও দুপুর গড়ায় না!!

প্রবীন শিক্ষিকা বিভাবতীর সকাল হলেও দুপুর গড়ায় না!!

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : আগামি বছরের মার্চে সরকারি চাকরি জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে স্কুল শিক্ষিকা বিভাবতী রায়ের। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে একমাত্র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন মাগুরার চেঙ্গারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবীন এই শিক্ষিকা। দিনের সকালটা হলেও যেন দুপুর গড়ায় না।

বিদ্যালয়ের চার সহকর্মীর দুই জন সুবিধাজনক স্থানে ডেপুটেশনে এবং অন্য দুই জন ডিপিএড ট্রেনিং ও মাতৃকালিন ছুটিতে যাওয়ায় খুবই একাকি স্কুল সামলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রবীন শিক্ষিকা।

মাগুরার সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের চেঙ্গারডাঙ্গা গ্রামের এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালে। হিন্দু অধ্যুসিত গ্রামটিতে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি থেকে পাস করে একাধিক শিক্ষার্থি ডাক্তার হয়েছেন। সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক এণ্ড কমিউনিকেশনের ছাত্র হিসেবে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতে নাম কুড়িয়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে জেলা শহর থেকে বেশ দূরে হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষকই বিদ্যালয়টিতে যোগদান করলেও অল্প কয়েকদিন পরই শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে ডেপুটেশনে সটকে পড়ছেন। এতে সেখানকার শিশু শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। আর একমাত্র শিক্ষক হিসেবে বিভাবতী রায়কে বাধ্য হয়ে ঘন্টা পেটানো থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের শিক্ষাদান সবই একাই করতে হচ্ছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, চেঙ্গারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা ৫ জন। যথারিতি শিক্ষক নিয়োগ হলেও কখনোই একসঙ্গে সকল শিক্ষক বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেননি। সর্বশেষ ২০০৫ সালে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অতুল কৃষ্ণ বিশ্বাস অবসরে গেলে আর কখনোই স্থায়িভাবে কেউ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেননি।

Magura-Deputation School News Pic-03সূত্র মতে, বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক সহ মোট ৫ জন শিক্ষকের নিয়োগ রয়েছে। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন এবং সহকারী শিক্ষক জাহিদুর রহমান উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে নিজেদের সুবিধামতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডেপুটেশনের নামে চলে গেছেন। অন্যদিকে একই সময়ে অপর দুই শিক্ষক সোলায়মান হোসেন ডিপিএড ট্রেনিং এবং রোখসানা খাতুন মাতৃকালিন ছুটিতে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অবশিষ্ট শিক্ষক বিভাবতী রায়। এতে করে চাকরি জীবনের শেষ প্রান্তে একাকি এতসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়শই অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন তিনি। আর শিক্ষা বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের দূর্ণিতি এবং সমন্বয়হীনতার কারণে শিক্ষক শূণ্যতায় পড়ে বিদ্যালয়ের শিশুরা ন্যায্য শিক্ষা প্রাপ্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এমন অবস্থা জেলা সদরের রামদেরগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত আরো ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও। মাগুরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ৬৪ জন শিক্ষক তথাকথিত ডেপুটেশনের মাধ্যমে সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। এতে করে ৫০টিরও বেশি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে শহরমুখি প্রবণতার কারণে অনেকেই পৌর এলাকার বিদ্যালয় গুলোতে ডেপুটেশনে সংযুক্ত হওয়ায় শহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্টেডিয়ামপাড়া, দরিমাগুরা, চার নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষক ডেপুটেশনের নামে সংযুক্ত হয়ে বেকার বসে আছেন।

সূত্রমতে, মাগুরা সদর উপজেলায় ১৮৩ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা ৯১১ জন। কিন্তু কর্মরত আছেন ৮৭৬ জন। মাত্র ৩৫ জন শিক্ষকের সংকট থাকলেও অনৈতিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ডেপুটেশনে থাকা ৬৪ জন শিক্ষক নতুন সংকটের সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় ডেপুটেশনের নামে ওই শিক্ষকদের সংযুক্তির আদেশ বাতিল করা হলে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট শিক্ষক সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে তাদের আশাবাদ।

মাগুরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট এবং কোথায়ও অতিরিক্ত শিক্ষকের ডেপুটেশনে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পুরো বিষয়য়টির জন্য সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন।

মাগুরা জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে জেলার মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় ডেপুটেশনের নামে সংযুক্তির আদেশ বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com