প্রথম পাতা » Featured » মাগুরার জনসমাবেশে শেখ হাসিনা: যারা ভোট ডাকাতি করে তাদের ভোট দিবেন না

মাগুরার জনসমাবেশে শেখ হাসিনা: যারা ভোট ডাকাতি করে তাদের ভোট দিবেন না

মাগুরার জনসমাবেশে শেখ হাসিনা: যারা  ভোট ডাকাতি করে তাদের ভোট দিবেন না

মাগুরা প্রতিদিন ডট কম : মাগুরার জনসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা বারবার নৌকা ভোট দিয়েছেন। নৌকায় ভোট দিয়ে মাতৃভাষা পেয়েছেন। নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছেন। নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন হয়েছে। যারা ভোট ডাকাতি করেছে তাদের ভোট দিবেন না। মঙ্গলবার বিকেলে মাগুরা মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের সংগঠন। আর আমাদের নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তান। তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর সংগ্রাম করেছেন এই দেশের মানুষের জন্যে, দেশের উন্নয়নের জন্য। আমরাও উন্নয়ন আর সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসি। কিন্তু যখনই কোন উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করতে যাই তখনই একটি শ্রেণী আমাদের বাধা দেয়। প্রধানমন্ত্রী ৯৪ এর উপনির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনাদের সেইদিন গুলিতে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। বিএনপি’র সন্ত্রাসিরা সেদিন ন্যাক্কারজনকভাবে ভোট চুরি করেছিল। সাধারণ ভোটারদের উপর অত্যাচার করেছিল। সেদিনের বিএনপির সেই নির্যাতনের কারণে সারাদেশে আমরা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলি। যে আন্দোলনের মুখে সেদিনের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে জনগণ।

Magura-PM-Pic-3প্রধানমন্ত্রী মাগুরাবাসির উদ্দেশ্য করে বলেন, আজ ৩০৮ কোটি টাকার ২৮ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯টির অচিরেই শুরু হবে। মাগুরাবাসী আমার কাছে রেল লাইন চেয়েছে। সেটিও দেবো। কিন্তু মাগুরাবাসির কাছে আমার একটিই দাবি। এখানে যেনো কোন রকম সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ এবং মাদকাসক্তি স্থান না পায় তার ব্যবস্থা আপনারা করবেন।

বক্তব্যের শুরুতে মাগুরার কৃতিসন্তান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও বাংলাদেশের শততম টেস্ট জয়ের বিষয়টি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি সবাই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জয়বাংলা টেস্ট জয়ের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে ভারত ও আমেরিকার কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি জামায়াত জোট। আমেরিকা ও ভারতের ‘র’এর সহযোগিতায় সেইদিন আওয়ামী লীগকে হারানো হয়েছিল। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েছিল। বিএনপি জামায়াত জোট সরকার ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত সারাদেশে নির্যাতন চালিয়েছিল। শুধু ক্ষমতায় থাকতেই নয়, বিরোধি দলে গিয়েও তারা মানুষকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। তারা ক্ষমতায় আসলেই দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, লুটপাট, মানিলন্ডারিং হয়। খালেদা জিয়ারপুত্র তারেক রহমানের মানি লন্ডারিংয়ের বিচার হয়েছে।

আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে কাজ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। আমরা বছরের প্রথম দিন ছেলে মেয়েদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছি। এক কোটির বেশি ছেলে মেয়েদের জন্য ‘মায়ের হাসি’ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘোষণা দিয়েছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ করবো। সারাদেশে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার করা হয়েছে। ছেলে মেয়ে আয়ের জন্য আউটসোর্সিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএনপির আমলে মোবাইল ফোন ছিল সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে। মোবাইল ফোনের দাম ছিল লাখ টাকার বেশি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মোবাইল ফোন সাধারণ মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছি। ১৯৯৬ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছিলাম। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা আবার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছি। ১৬ হাজারের অধিক কমিউনিটি ক্লিনিকের গরীব মানুষ বিনামূল্যে ৩০ প্রকার ওষুধ পাচ্ছে। সারাদেশে ১ কোটি ৭৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি জেলায় ভিক্ষুক মুক্ত করার কাজ করছি আমরা। প্রতিবন্ধীদের ভাতার ব্যবস্থা করেছি। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। দেশের ৫০ লাখ মানুষ ১০ কেজি দরে বছরের ৫ মাস চাল পাচ্ছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা দিচ্ছি। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। কোন অন্ধাকার থাকবে না। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেব। প্রত্যেকটি স্কুলে জরাজীর্ণ ভবনের পরিবর্তে নতুন বহুতল ভবনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করা। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা স্বজন হারানো স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। যারা স্বজন হারিয়েছেন, তারা বোঝেন স্বজন হারানোর বেদনা কত কঠিন। একদিনে আমার পরিবারের ১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব-পরিবারের হত্যার পর আমি আর ছোট বোন রেহেনা বেঁচে ছিলাম। আমরা দুই বোন ৬ বছর দেশে ফিরতে পারিনি। ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। চট্টগ্রামে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছিল। বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আপনাদের ভালবাসায় বেঁচে আছি। আমি মৃত্যুর ভয় পাই না। আল্লাহ ছাড়া আমি কাউকে ভয় করিনা। বাবার আদর্শ বুকে নিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। প্রয়োজন হলে আপনাদের জন্য বাবার মত বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে দেব। সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা চাই।

এর আগে বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে জনসভা মঞ্চে হাজির হন প্রমানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ১৯টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ৯টি উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জনসভায় অন্যান্যেল মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ এমপি, আবদুর রহমান এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. বীরেন শিকদার, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদহ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল ওয়াহাব, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন ও পারভীন জামান কল্পনা, আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি শাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি নির্মল চ্যাটার্জি, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম জাকির হোসেন, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুন্ডু প্রমুখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড শফিকুজ্জামান বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক খুরশিদ হায়দার টুটুল প্রমুখ।

এছাড়াও যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ি, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com