প্রথম পাতা » Featured » মাগুরায় ১২ ইউনিয়নের ৫টিতে আওয়ামী লীগৈর বিদ্রোহি প্রার্থী

মাগুরায় ১২ ইউনিয়নের ৫টিতে আওয়ামী লীগৈর বিদ্রোহি প্রার্থী

মাগুরায় ১২ ইউনিয়নের ৫টিতে আওয়ামী লীগৈর বিদ্রোহি প্রার্থী

প্রতিদিন ডেস্ক : মাগুরায় সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ১২ ইউনিয়নে আগামি ৩১ মার্চ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রবিবার যাচাই বাছাই শেষে মোট ৫৫ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একজন করে প্রার্থী নির্বাচন করে মনোনয়ন দিলেও ৫টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী বিদ্রোহি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, চাউলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে হাফিজার রহমান মোল্যা, বিএনপির প্রার্থি হিসেবে রেজাউল করিম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সিহাব উদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে আওয়ামীলীগে রয়েছে একাধিক বিদ্রোহি প্রার্থি। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরোধিতা করে এ ইউনিয়নে বাদশা মিয়া ও মিজানুর রহমান তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী হোসনে আরা শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন । শেষ পর্যন্ত এখানে একজন প্রার্থীকেই চুড়ান্ত করা হবে বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে বগিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন মীর রওনক হোসেন জন্নু। বিএনপির দলীয় প্রতীক পেয়েছেন সৈয়দ তরিকুল ইসলাম। এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন আয়ুব আলি।

রাঘবদাইড় ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সমর্থন পেয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন আশরাফুল আলম। অন্যদিকে বিএনপির দলীয় সমর্থন পেয়ে শরফুদ্দিন আহমেদ রাজা মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও একই পরিবার থেকে ডামি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলি আহমেদের স্ত্রী শামসুন নাহার। এ ইউনিয়নে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে রোস্তম আলি তার মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবু বকর সিদ্দিকী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
হাজরাপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সমর্থন পেয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন কবির হোসেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান।
গোপালগ্রাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বৈধ প্রার্থী মোট ৯ জন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নাসিরুল ইসলাম। তবে একই দল থেকে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন বাদশা মিয়া। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থি হিসেবে লিয়াকত আলি, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মিসকাদুর রহমান এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহসিন মোল্যা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরফান মোল্যা, আলমগির হোসেন, নাজমুল হাসান, বদরুল আলম মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

কসুন্দি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সমর্থন নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন শ্রমিক লীগ সভাপতি আবুল কাশেম। তবে তার বিরোধিতা করে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন বাকি বিল্লাহ সান্টু। তিনি পরপর দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়েও দলীয় সমর্থন না পাওয়ায় বিদ্রোহি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এ ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন লিটন সরদার। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন লতিফুল আলম লিপটন এবং মেহেদি হাসান।
বেরইল পলিতা ইউনিয়নে এবারও আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন গতবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান খোন্দকার মহব্বত আলি। অন্যদিকে বিএনপি থেকে শেখ শফিকুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে শহিদুল ইসলাম মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে ডামি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন শরিফা ইসলাম।

আঠারখাদা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে সঞ্জীবন বিশ্বাস মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মুক্তাদুর রহমান। এ ইউনিয়নে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বিগত সময়ে বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা অমরেশ বিশ্বাস।

হাজিপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে মোজাহারুল হককে। তবে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন একই দলের সুজাউদ্দৌলা। বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করছেন একাধিক বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কাশেম টিটব। এছাড়া ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে জাকির হোসেন, জাসদের বাশারুল হায়দার বাচ্চু, এবং ওয়ার্কাস পার্টির গোলাম মোস্তফা নির্বাচন করছেন।

শত্রুজিতপুর ইউনিয়ন থেকে এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এড.সনজিত বিশ্বাস। এ ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গতবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হয়েছেন ওসমান মল্লিক।

মঘি ইউনিয়নে এবার গতবারের নির্বাচিত চেয়াম্যান প্রফেসর আবদুল লতিফকে সরিয়ে আবদুল হাই সরদারকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ ইউনিয়েন বিএনপি প্রার্থী হিসেবে লিয়াকত আলি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমদাদুল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জগদল ইউনিয়নে গতবারের পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে গতবারের বিজয়ী প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ হোসেন দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামীলীগের আরেকজন বিদ্রোহি প্রার্থী হচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম। এ ইউনিয়নে বিএনপি থেকে আবদুর রাজ্জাক, জাতীয় পার্টি থেকে ইমদাদুল মোল্যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মিজানুর রহমান প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

সদর উপজেলার ১২ টির মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় পার্টি ৩ টি ইউনিয়নে তাদের প্রার্থী দিয়েছেন। এছাড়া জাসদ এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি ইউনিয়নে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। বিএনপি সবকটি ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন দিলেও দুটি ইউনিয়নে ডামি প্রার্থীকে মনোনয়ন পত্র জমা দেবার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এসব ইউনিয়নে একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com