প্রথম পাতা » Featured » প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে মাগুরার ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে মাগুরার ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে মাগুরার ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

হোসেন সিরাজ : মাগুরা জেলায় ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার কারণে এসব বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়া বধাগ্রস্ত হচ্ছে দারুণভাবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫০০টি। এর মধ্যে ১৩১ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র আরও জানিয়েছে, বদলী ও অবসরজনিত কারণে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ায় সহকারি শিক্ষকদের মধ্যে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

সূত্র মতে, জেলার চার উপজেলার মধ্যে মাগুরা সদর উপজেলায় ৪০ টি, শ্রীপুরে ২৭টি, শালিখায় ২৫ টি এবং মহম্মদপুরে ৩৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

যেসব স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য এর মধ্যে বেশ কয়েকটি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে স্কুলের শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তাদের মতে, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশেই প্রধান শিক্ষকসহ চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে কোন স্কুলে যেকোন কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে সংশ্লিষ্ট স্কুলে শিক্ষক সংকট দেখা দেয়। তার উপরে আবার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রতি মাসের উল্লেখযোগ সংখ্যক দিনগুলোতেই উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন অফিসে দৌড়াদৌড়ির কারণে তিনি স্কুলে উপস্থিত থাকতে পারেন না। সঙ্গত: কারণে ঐ স্কুলের পাঠদান ব্যাহত হয়।

এ ব্যাপারে এ প্রতিনিধির সাথে কথা হয় মাগুরা সদর উপজেলার বালিয়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তুহিনুল ইসলাম, পার্শ্ববর্তী ঘোড়ানাছ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়াজ মোরশেদসহ সদর উপজেলার দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত শিকদারের সাথে।

তাদের মতে, বছরের পর বছর তাদের স্কুলগুলো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে করে ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়াও যেমন বিঘিœত হচ্ছে তেমনি স্কুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমও সুচারুরূপে সম্পন্ন হচ্ছে না।

এ প্রতিনিধির প্রশ্নর উত্তরে ঘোড়ানাছ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়াজ মোরশেদ বললেন, ”এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য থাকার কারণে তাকেই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এখানে চার জন শিক্ষককে প্রায় ৩ শাতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর ক্লাস নিতে হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন ধরণের কাজ থাকার কারণে মাঝে মাঝেই তার পক্ষে আর ক্লাস নেয়া সম্ভব হয় না যে কারণে অনেক সময়ই পাঠদান ক্ষতিগ্রস্থ হয়”।

সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে স্কুলগুলোতে জরুরী ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সদর উপজেলার পার-পলিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক দ্বিপেন্দ্রনাথ বিশ^াসও একই ধরণের মত প্রকাশ করে বললেন, ”২০০৯ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই দীর্ঘ ৮ বছরেও এখানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ার কারণে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দৌড়ানো থেকে শুরু করে স্কুলের বাইরের সব ধরণের কাজ আমাকেই করতে হয়”। তার মতে, পাঠদানসহ স্কুলের সার্বিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে প্রধান শিক্ষকের পদ জরুরী ভিত্তিতে পূরণ করা প্রয়োজন।

জেলার এতগুলো স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য তাকার বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমীন বললেন, ”প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে শুধু যে, লিখিতভাবে জানানো হয়েছে তাই নয়, যেসব শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন তাদের নামের একটি তালিকাও ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে”। দ্রুতই প্রধান শিক্ষকের শূন্য থাকা পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com