প্রথম পাতা » Featured » শালিখা ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাথ ও অনিয়মের অভিযোগ

শালিখা ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাথ ও অনিয়মের অভিযোগ

শালিখা ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাথ ও অনিয়মের অভিযোগ

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : মাগুরার শালিখা উপজেলার পোড়াগাছি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি মজুমদারের বিরুদ্ধে আর্থিক দূর্নীতি এবং ভূমিহীনদের নামে ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে একক কর্তৃত্বে সমুদয় কাজটি সম্পন্ন করতে গিয়ে তিনি নানা অনিয়ম দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।

সবার জন্যে বাসস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিভিআরপি প্রকল্পের অধিনে চলতি অর্থ বছরে পোড়াগাছি মৌজায় গৃহহীন মানুষদের বসবাসের জন্যে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে ঘর নির্মাণ বাবদ ৩১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা এবং মাটির কাজের জন্যে কাবিখা কর্মসূচীর আওতায় ৩৬ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ঘর নির্মাণ শেষে চলতি মাসের প্রথম দিকে ২০টি পরিবারকে সেখানে বসবাসের জন্যে তুলে দেওয়া হলেও নির্মাণ কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা, অপরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা, মাটির ব্যবহারে কারচুপি এমনকি গৃহহীণ পরিবার চিহ্নিত করণের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পোড়াগাছি গুচ্ছগ্রাম সিভিআরপি প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু গুচ্ছগ্রামে বরাদ্দ পাওয়া সুবিধাভোগি গৃহহীন পরিবার নির্বাচন, নির্মাণ কাজ পরিচালনা, অর্থ ব্যয়, তদারকি কোথায়ও কমিটিভূক্ত সদস্যদের রাখা হয়নি।

Magura-Shalikha Gucchogram Pic-01সূত্রমতে, ১ একর ১০ শতাংশ খাস জমির উপর ২০টি ঘর ও ২০টি ল্যাট্রিন তৈরির জন্যে প্রকল্প সভাপতি শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি মজুমদার নিজের সুবিধার্থে মাগুরা শহরের পুলিশ লাইন এলাকার সিহাব আহমেদ নামে এক লেদ মালিককে নিযুক্ত করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর ল্যাট্রিনসহ একেকটি ৩শ বর্গফুট আয়তনের ২০ কাঁচা মেঝের টিনের ঘর তৈরি করে কাজের বিপরীতে অর্থও পেয়ে গেছেন তিনি। আর ওই কাজের জন্য প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে সিহাব আহমেদ জানিয়েছে। অথচ নির্মাণ ব্যায়ের তথ্য গোপন করে বাকি অর্থ ইউএনও সুমি মজুমদার নিজস্ব একাউন্টে জমা করেছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।

অন্যদিকে গুচ্ছগ্রামে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৬ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন চাউলের মধ্যে ইউএনও সুমি মজুমদার তিনটি ধাপে মোট ২৭ দশমিক ৫০ টন চাউল উত্তোলন করেছেন বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১০ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শ টাকা। অথচ মাত্র আড়াই লক্ষ টাকার মাটি ব্যবহার করে বাকি টাকা ইউএনও রেখে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই কাজের জন্যে গঠিত কমিটির সভাপতি ইউপি মেম্বর রকিব উদ্দিন। আবার ৩টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্যে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে কোন নলকূপ স্থাপন না করে সেটি তসরুপ করা হয়েছে সরজমিনে দেখা গেছে।

DSCN3797একইভাবে চলতি বছরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির জীবনমান উন্নয়নে স্থানীয় আদবাসিদের শিক্ষাবৃত্তি, গাভীপালন, অগভীর নলকূপ স্থাপন ও সেলাই মেশিন বাবদ বরাদ্দকৃত সরকারি ৩০ লক্ষ টাকা বণ্টনে অনিয়ম, সম্প্রতি শেষ হওয়া ৪০ দিনের কর্মসূচী থেকে বিভিন্ন ইউপি মেম্বর ও চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় অন্তত ১০ লক্ষ টাকা আদায় ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্প থেকে আর্থিক বিভিন্ন দূর্নীতির মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ নিজস্ব একাউন্টে জমা করেছেন বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

এ অবস্থায় গৃহহীন অসহায় মানুষদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গৃহিত প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে জেলার বাইরে যশোরের শহীদুল ইসলাম এবং সাগর হোসেন নামে একই পরিবার ভূক্ত বাবা-ছেলের নামে দুটি ঘর বরাদ্দের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ছাড়াও ভূমিহীন পরিবার নির্বাচনে ত্রুটি দেখা গিয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শালিখা উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারি হাসিনা বেগম যশোরে বসবাসরত তার বোনের স্বামী শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী এবং তাদের ছেলে সাগরকে দিয়ে ওই গুচ্ছগ্রামের কিছু জমিতে বসিয়ে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করেন। বেশকিছুদিন তারা অবৈধভাবে দখলে থাকা অবস্থায় কৌশলের অংশ হিসেবে স্থানীয় ভোটার তালিকায় হাসিনা বেগম তার বোনের পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভূক্ত করেন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন সরকারি খাস খতিয়ানের জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করলে ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক হাসিনা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে সুবিধা আদায় করেন। পোড়াগাছি গুচ্ছগ্রামের সুবিধাভোগিদের মধ্যে এ রকম আরো উদাহরণ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

বিষয়টি নিয়ে শালিখা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা শামসুল আরেফিন বলেন, আমাকে পোড়াগাছি গুচ্ছগ্রাম ফেস-২ প্রকল্পের সদস্য সচিব করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই কাজের কোথায়ও আমাকে রাখেননি। এমনকি এ প্রকল্পের কোন কাগজপত্রও আমাকে দেননি। বিধায় এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।

অভিযুক্ত শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি মজুমদার বলেন, উপজেলা কমিটির সভাপতি এবং ইউএনও হিসেবে সকল দায় দায়িত্ব আমার। বিধায় কোথায় কী খরচ হয়েছে সে বিষয়ে অন্যদেরও কিছু বলার নেই। সরকারি অর্থেরও কোন তসরুপ করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, পোড়াগাছি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পটির বিষয়ে ওই উপজেলার ইউএনওর কাছ থেকে কোন প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com