প্রথম পাতা » Featured » হতদরিদ্রদের জন্য আশীর্বাদ কাজলির এম.এ.খালেক হাসপাতাল

হতদরিদ্রদের জন্য আশীর্বাদ কাজলির এম.এ.খালেক হাসপাতাল

হতদরিদ্রদের জন্য আশীর্বাদ কাজলির এম.এ.খালেক হাসপাতাল

হোসেন সিরাজ : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের কাজলি গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত একটি হাসপাতালের নাম এম.এ.খালেক হাসপাতাল।

হাসপাতালটি এলাকার হতদরিদ্র মানুষগুলোকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দেয়ার মতো মহৎ এবং প্রশংসনীয় কাজের মাধ্যমে এলাকার মানুষের উপকার করে চলেছে প্রায় ২৩ বছর যাবত।

জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী কাজলি গ্রামে ত্রিশ শতক জমির উপর স্থাপিত হাসপাতালটি যদিও যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ নয় তবুও প্রশংসনীয় সেবা দেয়ার মাধ্যমে এটি এখন এলাকার চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে আশীর্বাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এলাকায় এই হাসপাতাটি থাকার কারণে এই এলাকার হতদরিদ্র মানুষগুলো প্রত্যাশিত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য যে শুধু জেলা সদরের হাসপাতাল কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাচ্ছে তাই নয়, সপ্তাহের শুক্রবার ছাড়া বাকি ছয়দিনই এখানে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিত্সা এবং ওষুধপত্র পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগী সাধারণসহ এই এলাকার অধিবাসিরা।

Magura-Pic-03এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে সব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবুল হোসেন বললেন, ”সময়ের ব্যবধানে এই হাসপাতালটি কাজলি গ্রামসহ ৪/৫টি গ্রামের মানুষের ভরসাস্থল। এলাকার যে কেউ অসুস্থ হলে প্রথমে এই হাসপাতালে আসার পর প্রয়োজন অনুসারে অন্য কোথাও যান তারা”।

তিনি আরও জানালেন, শুক্রবার ছাড়া প্রত্যেকদিনই এখানে এলাকার হতদরিদ্র মানুষের তাদের পেটে ব্যাথা, জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ নানা ধরণের সাধারণ রোগের চিকিত্সা এবং ওষুধ পেয়ে থাকেন বিনা পয়সায়। শুধু তাই নয়, তুলনামূলক স্বচ্ছল রোগীরা ওষুধ না পেলেও ব্যবস্থাপত্র পেয়ে থাকেন বিনামূল্যে বলে জানালেন এই জনপ্রতিনিধি।
এই এলাকা থেকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের দূরত্ব যেহেতু প্রায় ৬ কিলোমিটার, সেক্ষেত্রে এই হাসপাতালটি এলাকার গরীব জনসাধারণকে সেখানে যাওয়ার হয়রানি থেকে রক্ষা করছে বলে এই এলাকার অনেকেই জানালেন।
এখানে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী জেসমিন খাতুন বললেন, ”এই হাসপাতালটির কারণে আমরা আমাদের চিকিৎসার জন্য জেলা সদর কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার বিড়ম্বনা থেকে শুধু রক্ষা পায়নি। চিকিৎসাসহ ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়ার কারণে এলাকার মানুষ খুবই উপকৃত হচ্ছে”।
কাজলি গ্রামের অধিবাসি অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও ঢাকার বিশিষ্ট শিল্পপতি শামসুল আযম (বর্তমানে মরহুম) ১৯৯৪ সালে এলাকার হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর  স্বাস্থ্য-সেবাসহ তাদের মাঝে স্বাস্থ্য চেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করে তার বাবা আলহাজ্ব এম.এ খালেকের নামে নামকরণ করেন।

কাজলি গ্রামের স্কুল শিক্ষক নাসিরুল ইসলাম বললেন, ”এই হাসপাতালটির মাধ্যমে এলাকার গরীব শ্রেণীর মানুষ যে শুধু বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ওষুধ পাচ্ছে তাই নয়, হাসপাতালটি এলাকার মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টিতেও ভ‚মিকা রাখছে”।

হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একজন এলএমএফ ডাক্তার ও একজন নার্সসহ হাসপাতালের যে চারজন ষ্টাফ রয়েছেন তাদের বেতন বাবদ প্রয়োজনীয় ৪০ হাজার এবং প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ওষুধ মিলিয়ে যে ব্যয়ভার তা বহন করতেন শামসুল আযম। বর্তমানে তার ছেলে ঢাকায় বসবাসকারী শিল্পপতি শাহজাদ আযম এই ব্যয়ভার বহন করছেন।

এ প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: পঙ্কজ বিশ্বাস বললেন, ”হাসপাতালটি সকাল ৯-০০ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে ডায়রিয়াসহ নানা ধরণের পেটের পীড়া সর্দি, কাশিসহ সাধারণ রোগের চিকিত্সা এবং ওষুধ বিনামূল্যে দেয়ার পাশাপাশি জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা সংক্রান্ত পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে”।

তিনি আরও জানালেন, প্রতিদিন শতাধিক রোগী এই হাসপাতাল থেকে চিকিত্সা সেবা নিয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com