প্রথম পাতা » Featured » আত্মহত্যা থেকে বাঁচুন ও বাঁচান

আত্মহত্যা থেকে বাঁচুন ও বাঁচান

আত্মহত্যা থেকে বাঁচুন ও বাঁচান

অরুণ মাঝি: মরতে কেউই চায় না — তবুও কেউ কেউ চায় ; আবার কেউ কেউ মরেও যায়। কেন? লোকে মরতে চায় কেন ? লোকে বাঁচতে গিয়ে মরতে চায় কেন ?

তোমাকে হীরে আর সোনার মধ্যে বেছে নিতে দিলে– তুমি বেছে নেবে হীরে। তোমাকে জীবন আর মরণের মধ্যে বেছে নিতে দিলে– তুমি বেছে নেবে জীবন। সকলেই– অপেক্ষাকৃত ভালোটা-ই বেছে নেয়। তাহলে কখনো কখনো মৃত্যু কি জীবনের থেকেও ভালো মনে হয়? নইলে যারা আত্মহত্যা করে ; তারা তা করে কেন ?

হয়তো তাই। অন্তত সেই যন্ত্রণা কাতর মানুষের সেই মুহূর্তে তাই মনে হয়। মানুষ এমনও যন্ত্রণা পায়– যখন মরণ– জীবন অপেক্ষা শ্রেয় মনে হয় ; অন্তত এটাই সেই যন্ত্রণা কাতর মানুষটি সেই মুহূর্তে ভাবে। এই মরনকামী যন্ত্রণার– জন্ম আর পালন কিভাবে হয় ? জনমে সকলেই দুর্বল ; পালনে সকলেই সবল। জনম কার জঠরে ? যার যন্ত্রণা তার জঠরে।পালন করে কে ? যার যন্ত্রণা সে। সব মানুষই তো যন্ত্রণা পায় ; কিন্তু সকলে তো মরতে চায় না। তবুও কেউ কেউ চায় ? কেন চায় ?

ধরো– জলে থাকো তুমি; কিন্তু সেই জলেরই কুমীর ছানাকে, ভালো ভালো খাওয়ার খাওয়ায় তুমি। তো কি হবে ? একদিন ওই কুমির ছানা খুব বড় হবে ; আর তারপর একদিন সে তোমার ঘাড় মটকে খাবে। অবসাদ তোমার ছোট্ট ছিলো ; কিন্তু তাকে তুমি নির্বংশ করো নি।একদিন অবসাদ থেকে আরো বেশি অবসাদ হবে ; আর সেই ভয়ঙ্কর অবসাদ তোমার গলায় ফাঁস লাগাবে।

অবসাদ কিভাবে নির্বংশ হবে ? আগে তোমাকে গ্রহণ করতে হবে– যে তোমার অবসাদ আছে ; আর তার নির্বংশ দরকার।অবসাদ ডায়াগনোসিস গ্রহণ করা যত সহজ ভাবছো, আসলে কি এটা তত সহজ ? না। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দম্ভ আছে। আর এই দম্ভই মানুষকে বাধা দেয় — অবসাদকে ডায়াগনোসিস হিসেবে গ্রহণ করতে। তুমি যদি অবসাদ কে ডায়াগনোসিস হিসেবে গ্রহণ না করো ; তাহলে তুমি তার প্রতিকারও চাইবে না। কখনো কখনো তুমি অবসাদ আছে জানলেও তার প্রতিকার তুমি খোঁজ না। কারণ ? তোমার লজ্জা আছে ; তোমার দম্ভ আছে।

আচ্ছা– তোমার দম্ভ কি তোমার জীবনের থেকে বড় ? তোমার দম্ভ কি তোমার সুস্থ দেহ-মনের চেয়েও বড় ? কি চাও তুমি– জীবন অথবা দম্ভ ? শান্তি অথবা লজ্জার আড়ষ্টতা ? সূর্য্য তো সারা পৃথিবী জন্ম জন্মান্তর আলোকিত করে ; তাকে তুমি দম্ভ করতে দেখেছো ? নদী তো জন্ম জন্মান্তর জীব জগৎ-কে খাইয়ে গেলো ; তাকে তুমি দম্ভ করতে দেখেছো ? তুমি হয়ত জীবনে তোমার ছাড়া আর কখনো কারো কাজে আসো নি ; তাহলে তোমার দম্ভ কেন ? সূর্য্যের দম্ভ নেই ; সাগরের দম্ভ নেই ; তো তোমার দম্ভ কিসের ? কত বড় তুমি ? এক মাইল দূর থেকে তোমাকে দূরবীন নিয়ে দেখলেও একটা পিঁপড়ে মনে হয়। পৃথিবীর আকারের তুলনায় তুমি ধূলার থেকেও অনেক অনেক ছোট্ট। তুমি কি জানো মহাবিশ্ব কতো বড় ? সেখানে সূর্য্যকেও ধূলার থেকে অনেক অনেক ছোট্ট মনে হয়। তাহলে তুমি ভাবো— তুমি কতো বড় !

রাস্তা দিয়ে যাচ্ছো— একটা গাড়ি এসে তোমাকে বলা নেই, কওয়া নেই, মারলো এক ধাক্কা ; আর তুমি তখন মরণের ওপারে।বলো তো– তোমার যদি পর মুহূর্তেরই ঠিক নেই — তাহলে তোমার লজ্জা কিসের ? তোমার দম্ভ কিসের ?

দম্ভ নিয়ে কেন এতো কথা বললাম ? কারণ এই দম্ভ তোমাকে নিজের কাছে, বা অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে বাধা দেয়। তোমার জীবন– ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ ; আর তুমি সাহায্য পাচ্ছো না ; তো কি হবে ? তোমার জীবন-ঝঞ্ঝা আরও বেশী ঘন হবে ; আর তাতে তোমার জীবন প্রদীপ হয়তো একদিন নিভে যাবে।

মানুষকে যত বেশী খারাপ ভাবো ; মানুষ তত বেশী খারাপ নয়। পৃথিবীতে খারাপ মানুষ আছে ; আবার ভালো মানুষও আছে। তুমি দশজনের কাছ থেকে সাহায্য চাইলে, একজন অন্তত তোমাকে সাহায্য দেবে। তুমি নিজে যত খারাপ মানুষ-ই হও না কেন ; তবুও তুমি সাহায্য পাবে। তুমি ভাবলে আশ্চর্য্য হবে যে– তোমার যন্ত্রণার কথা তুমি যদি তোমার শত্রুকে সৎ ভাবে বলো ; সেও তোমাকে সাহায্য করবে। আরে বাবা– শত্রু হলেও সেও তো মানুষ ; তারও তো তোমার মতো হৃদয় আছে ; সেও তো তোমার মতো দুঃখ পেলে কাঁদে। বেশীরভাগ সময়েই শত্রুতা হলো– দম্ভের ফল। স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স হয়ে শত্রু হয়ে যায়। কেন ? যারা একসময় প্রেম করে বিয়ে করেছে ; তারা কেন পরস্পরের শত্রু হয়ে যায় ? উত্তর জলের মতো সহজ– দম্ভ আর দম্ভ।

বন্ধু, তোমার যদি এমন যন্ত্রণা থাকে জীবনে; যে– তুমি অবসাদ গ্রস্ত হয়ে তিল তিল করে শেষ হয়ে যাচ্ছো ; তাহলে তুমি সাহায্য চাও। এখনই চাও। এখনই তুমি বাড়ি থেকে বের হও ; অথবা ফোন করো— তোমার বাবা, মা, ভাই, বোন, বন্ধু, আত্মীয় পরিজন অথবা অফিসের বস-কে। একজন প্রত্যাখ্যান করলে দশ জনকে চাও। দশ জন প্রত্যাখ্যান করলে একশো জনকে চাও। কিন্তু সাহায্য তোমাকে পেতেই হবে। আর একটা কথা — আজকেই কিন্তু তোমার ডাক্তারের সাথে আপয়েন্টমেন্ট করতে হবে।

আজকে শুধু আমি সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বেশী করে লিখলাম। কারণ– যে সব মানুষ আত্মহত্যা করেছে– তারা আসলে নীরবে দগ্ধে দগ্ধে আগে মরেছে ; তারপর গলায় ফাঁস লাগিয়ে শেষ দীপ নিভিয়েছে। যারা আত্মহত্যা করেছে তারা প্রায় প্রত্যেকেই কোন সাহায্য চায় নি, বা পায় নি। তাই বিশদে লিখলাম- অবসাদ গ্রস্ত জীবনে সাহায্য কেন জীবনদায়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com