প্রথম পাতা » Featured » মাগুরায় টেণ্ডারে ভুয়া তথ্য দিয়ে সরকারি গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাথ

মাগুরায় টেণ্ডারে ভুয়া তথ্য দিয়ে সরকারি গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাথ

মাগুরায় টেণ্ডারে ভুয়া তথ্য দিয়ে সরকারি গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাথ

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : নির্মাণ কাজ চলছে খাদ্য গুদামের সীমানার মধ্যে। অথচ টেণ্ডারে ভূয়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভিতরের ৯টি মূল্যবান সরকারি গাছ ঝড়ে পড়া ও মরা বলে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রে প্রকাশ, খাদ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মাগুরা সদর, শ্রীপুর এবং আলোকদিয়া খাদ্য গুদামের মধ্যে তিনটি নতুন গোডাউন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে গেছে। ওইসব কাজের শুরুতে সেখানে কিছু গাছ কাটা পড়ে। যে গাছগুলো বিক্রির জন্যে মাগুরা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম গত মাসের ২০ তারিখে ঢাকার একটি পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভিতর কোন নির্মাণ কাজ না চললেও দরপত্রে অংশ নেয়া ঠিকাদারদের কাছে তিনি ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। যার মাধ্যমে খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভিতরে জীবন্ত দাঁড়িয়ে থাকা ৯টি মূল্যবান গাছ মরা ও ঝড়ে পড়া উল্লেখ করে ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও মাত্র ৫২ হাজার ২২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করেছেন। আর লক্ষ লক্ষ টাকার গাছের মূল্য মাত্র ৪৩ হাজার ৫শ টাকা নির্ধারণ করে দিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারাও জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে উৎকোচ পেয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

একই ভাবে শ্রীপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের কেটে ফেলা ৫৩ খণ্ড গাছ ৮৮ হাজার ৫শ টাকা এবং আলোকদিয়া খাদ্য গুদামের ৯ খণ্ড গাছ ২২ হাজার ৪৪৭ টাকায় বিক্রি দেখিয়ে মোটা অংক আত্মসাথ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় ঠিকাদার জানান, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা শহরের ভায়না এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালি ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করেন। যারা তাদের দরপত্র ক্রয়ে বাধা প্রদান করেন। আবার কয়েকজন দরপত্র ক্রয় করলেও তাদের কাছ থেকে তথাকথিত নেগোশিয়েশনের নামে জোরপূর্বক দরপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়।

তুহিন হাসান নামে একজন ঠিকাদার বলেন, আমি দরপত্র করি। কিন্তু নেগোসিয়েশনের কথা বলে আমার কাছ থেকে সিডিউল কেড়ে নেওয়া হয়। অথচ তারা আমার সিডিউলের দামটি পর্যন্ত দেইনি।

এদিকে মাগুরা জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভিতরে দাড়িয়ে থাকা মোটা তাজা গাছের মূল্য কম নির্ধারণের বিষয়ে সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, খাদ্য কর্মকর্তার দেখিয়ে দেওয়া গাছের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ঠিকাদারকে কোন কোন গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন সেটি তিনিই বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলাম বলেন, ঝড়ে একটি গাছ পড়ে গেছে। আরো গাছ পড়ে যেতে পারে সেই আশঙ্কায় গাছগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে শিঘ্রই সেখানে নতুন করে গাছ লাগানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com