প্রথম পাতা » Featured » শালিখায় সাদা স্ট্যাম্পে স্কুল দপ্তরিদের স্বাক্ষর গ্রহণ : একজনকে গ্রামছাড়া

শালিখায় সাদা স্ট্যাম্পে স্কুল দপ্তরিদের স্বাক্ষর গ্রহণ : একজনকে গ্রামছাড়া

শালিখায় সাদা স্ট্যাম্পে স্কুল দপ্তরিদের স্বাক্ষর গ্রহণ : একজনকে গ্রামছাড়া

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : স্কুলে বেতন ভাতা নিশ্চিত করার কথা বলে মাগুরার শালিখা উপজেলার ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাছ থেকে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় ক্রিড়ামন্ত্রীর ভয় দেখিয়ে নিউটন বিশ্বাস নামে অপর এক দপ্তরিকে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে।

মাগুরার জেলা শিক্ষা অফিস, স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এ উপজেলার ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০১৫ সালে সম্পন্ন হলেও বিভাগিয় জটিলতার কারণে মাগুরাসহ সারাদেশে মোট ১ হাজার ৩ শত ২৭ জন কর্মচারি দুই বছর যাবত বিনা বেতনে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগকৃত ওইসব কর্মচারিদের বেতন ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি জুন মাসের ৮ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ রাজস্ব শাখার সহকারি পরিচালক মো: নবুয়াত হোসেন স্বাক্ষরিত বাজেট বরাদ্দ সংক্রান্ত পত্রটি ইতোমধ্যে মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে পৌঁছেছে। যেখানে শালিখা উপজেলার ১৩টি বিদ্যালয়ে কর্মরত দপ্তরির বেতন ভাতা হিসেবে ১৮ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬১৩ টাকা বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের কর্মচারিদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ ছাড় করা হলেও স্থানীয় কতিপয় অসাধু সরকারি কর্মচারিদের যোগসাজস এবং আওয়ামীলীগ নেতাদের অপতৎপরতায় বেশ বেকায়দায় পড়েছেন শালিখার ১৩ টি বিদ্যালয়ের ওইসব কর্মচারি। তাদের অভিযোগ, শালিখা উপজেলা শিক্ষা অফিসার অরুণ কুমার ঢালি অফিস আদেশটি গোপন করে স্থানীয় বেতন বঞ্চিত ১৩ জন দপ্তরির কাছ থেকে ২৬ লক্ষ টাকা করে আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিরেন শিকদারের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত মাগুরার আড়পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তফসির হোসেন মোল্যা গত সোমবার বেতন বঞ্চিত ১৩ জনকে শালিখা উপজেলা পরিষদ মঞ্চের সামনে জড়ো করেন। সেখানে তিনি প্রত্যেকের বেতন ভাতা চালু করার জন্য ২ লক্ষ টাকা করে দাবি করেন। যে টাকা নিয়োগকালিন সময়ে শালিখায় উপজেলা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত অফিসার নাজমুন নাহার, শালিখার বর্তমান শিক্ষা অফিসার অরুণ কুমার ঢালিসহ উর্ধতন বিভিন্ন কর্মকর্তাদের দিতে হবে। ওই টাকা বেতন ভাতা উত্তোলনের সময় কেটে রাখা হবে এবং তার নিশ্চয়তা হিসেবে প্রত্যেককে ৩শত টাকা মূল্যের সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দিতে নির্দেশ দেন তারা জানান।

এ অবস্থার প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ চত্ত¡রে উপস্থিত গঙ্গারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাবড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবরা বয়রা, সানি আড়পাড়া, কুপুরিয়া, দেলুয়াবাড়ি, হরিশপুর, কুমোরকোঠা, রামপুর, বরইচারা এবং বাউলিয়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ জন দপ্তরি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের নির্দেশনা মেনে স্বাক্ষর করে দেন। কিন্তু দেশনোমুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলমগির হোসেন এবং নরপতি বিদ্যালয়ের নিউটন বিশ্বাস স্বাক্ষর না করে সেখান থেকে সরে পড়েন। এ ঘটনার পর আওয়ামীলীগ নেতা তফসির হোসেন মোল্যা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ভাই বিমল শিকদারের ভয় দেখিয়ে তাদের মধ্যে আলমগির হোসেনকে সোমবার শালিখা উপজেলা সদরে তুলে এনে সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে অপর দপ্তরি নিউটন স্বাক্ষর না করায় তাকে মোবাইল ফোনে হাত-পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

নরপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি নিউটন বিশ্বাস জানান, চাকরির প্রথমে অনেককে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়েছে। তারপরও আমরা দুই বছর কোন বেতন ছাড়াই কাজ করছি। এখন আমাদের প্রত্যেকের বেতন ভাতার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। অথচ সেই বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে অসাদু ব্যক্তিরা অন্যায়ভাবে আমাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

নিউটন বিশ্বাস বলেন, শালিখা’র ১২ জনই সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করলেও আমি করিনি। যে কারণে আওয়ামীলীগ নেতা তফসির মোল্যা মন্ত্রীর ভাইয়ের ভয় দেখিয়ে আমাকে গ্রামছাড়া করেছে।

এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা শিক্ষা অফিসার অরুণ কুমার ঢালির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সরকারি বেতন ভাতা ছাড়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যাদের কাগজপত্র সঠিক আছে তারা ৩০ জুনের মধ্যেই বকেয়া সমুদয় বেতন ভাতা পাবেন। তবে কোন উৎকোচ আদায় কিংবা সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আড়পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি তফসির হোসেন মোল্যার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com