প্রথম পাতা » Featured » কুমার নদে প্রাণের সঞ্চার: প্রচুর দেশী মাছ ধরা পড়ছে

কুমার নদে প্রাণের সঞ্চার: প্রচুর দেশী মাছ ধরা পড়ছে

কুমার নদে প্রাণের সঞ্চার: প্রচুর দেশী মাছ ধরা পড়ছে

প্রতিদিন ডেস্ক: বেশ কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণের ফলে মাগুরা-শ্রীপুরের উপর দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদে নতুন এক প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। প্রায় সারাবছর ধরে শুকিয়ে থাকা কুমার নদে এখন থৈ থৈ পানি। ধরা পড়ছে প্রচুর দেশী মাছ। ফলে নদী পারের মানুষগুলোর দৈনিক আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন পানিপ্রবাহে কুমার নদের পুরো চেহারায় এখন বদলে গেছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী পারের মানুষগুলোর মাঝেও এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পাট জাগ দেওয়া, পশুপ্রাণি গোসল করানো থেকে শুরু করে মানুষের বিভিন্ন কাজের উপলক্ষ তৈরি করেছে নতুন পানি। পানি ভালো থাকায় সাধারণ মানুষেরা এখন নদীতেই গোসল করছে।
নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে প্রচুর ছোট ও বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে টেংরা, পুঁটি, বেলে, বাইন, ছোট চিংড়ি, শিং এ জাতীয় মাছ বেশি পরিমাণে ধরা পড়ছে। এসব মাছ খেতেও সুস্বাদু। বিভিন্ন পয়েন্টে বা বাঁকে দুই একটা দেশী রুইও ধরা পড়ছে যা বিভিন্ন বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। মৎস্য শিকারীরা বিভিন্ন ধরনের জাল, ঘুনি, দোহার এবং লোকায়ত কলা কৌশল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন। প্রতিদিন গড়ে এক একজন মৎস্যশিকারী তিন শত থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত মাছ বিক্রি করতে পারছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নদীর বাঁক এলাকায় সবচেয়ে বেশি মাছ ধরা পড়ছে। অনেকেই এখন অন্য কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্যে মাছ ধরার সাথে যুক্ত হয়েছেন। ঈদের আগে গরিব মানুষেরা মাছ ধরে নগদ টাকা আয় করতে পেরে এখন দারুণ খুশি।
গাংনালিয়ার গরিব মৎস্যশিকারী চাঁনমোহন সিং জানান তিনি বড়শি দিয়ে প্রতিদিন বাইন ও কুঁচে মাছ শিকার করেন। এসব মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন তিনশত থেকে পাঁচশত টাকা আয় করছেন। মাছ ধরার আগে চাঁনমোহন সিং দিনমজুরির কাজ করতেন। কিন্তু এখন মাছ ধরে আয় করতে পারায় তার সংসারে কিছুটা হলেও স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। একই কথা জানালেন কুমার পারের দিনমজুর আব্দুল খালেক। কুমার নদে পানি বাড়ার পর তিনি এখন মাছ ধরার কাজ করছেন। মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন তিনি চার থেকে পাঁচশত টাকা আয় করছেন।
কুমার নদের মাছের কদর সর্বত্রই। প্রতিদিন শ্রীপুর থানা সদর বাজার, খামারপাড়া, গাংনালিয়া, কাজলী বাজারে তুলনামূলক বেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারও অভাব নেই। অনেকেই আবার মাছ মধুখালী, কামারখালী নিয়ে বিক্রি করছেন। ক্রেতারা জানিয়েছেন কুমার নদের মাছের স্বাদই আলাদা হওয়ার কারণে বাজারে মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নদী থেকে মাছ পাওয়ায় অনেক দরিদ্র পরিবারেই এখন সামান্য হলেও আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন ঈদের আগে-পরে হাটবাজারে আরও বেশি মাছ উঠবে বলে সবার ধারণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com