প্রথম পাতা » সংবাদ প্রতিদিন » গুলিবিদ্ধ শিশুটির বাবাকে মৃত্যু হুমকি দেয়া হচ্ছে

গুলিবিদ্ধ শিশুটির বাবাকে মৃত্যু হুমকি দেয়া হচ্ছে

গুলিবিদ্ধ শিশুটির বাবাকে মৃত্যু হুমকি দেয়া হচ্ছে

দোয়ারপাড়ে বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে গুলিবিদ্ধ প্রসূতি নাজমা বেগম মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। অপরদিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে আলাদা করে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হলেও মৃত্যু হুমকি নিয়ে দারুন উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তাদের পরিবার।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম এবং প্রতিপক্ষ যুবলীগ কর্মী একই এলাকার বাসিন্দা আজিবর-আলির মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে প্রসূতি মা নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ সুমন হোসেন ও সুবাহান নামে দুইজনকে ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত মূল আসামিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
গুলিবিদ্ধ নাজমার স্বামী বাচ্চু ভূইয়া বলেন, বৃহস্পতিবার বন্দুক যুদ্ধের পর পুলিশ ৭২ ঘন্টার সময় চেয়ে নিয়েছে।  অথচ এখন পর্যন্ত তারা মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। যে কারণে আসামিরা নিরাপদ স্থানে থেকে আমাকে মোবাইল ফোনে মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে গুলিবিদ্ধ শরীর নিয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অপরিণত শিশুর কথা ভেবে ভেবে দারুন শঙ্কার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন মা নাজমা বেগম। দীর্ঘ সাড়ে ৭ মাস ধরে সন্তানটিকে শরীরে বয়ে নিয়ে বেড়াবার পরও তাকে একটিবার দেখতে না পারার জন্য আক্ষেপ জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে সন্ত্রাসিদের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত সন্তানের ব্যথায় কাতর নাজমা বেগম অপরাধিদের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসিদের গুলি আমার সন্তানের শরীরের চারটি স্থানে আঘাত করেছে। আমিও চাই ওইসব সন্ত্রাসিদের গুলি করেই হত্যা করা হোক।
বৃহস্পতিবার প্রকাশ্য দিবালোকে বন্দুক যুদ্ধ চলাকালে প্রসূতি নাজমা বেগম ছাড়াও আহত হয় একই এলাকার বাসিন্দা আবদুল মমিন (৬০) এবং মিরাজ হোসেন (৩০)। শুক্রবার গভীর রাতে মারাত্ম জখম আবদুল মমিনের মৃত্যু হলে পরদিন তার ছেলে রুবেল হোসেন জেলা যুবলীগ কর্মী আজিবর, মহম্মদ আলি, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সেন সুমনসহ ১৬ জনকে আসামি করে মাগুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে সুমন হোসেন ও সোবাহান নামে স্থানীয় দুই যুবককে পুলিশ গ্রেফতারের পর ৭ দিনের রিমাণ্ড প্রার্থনা করলেও এখন পর্যন্ত তাদের রিমাণ্ড শুনানি হয়নি। তবে আগামি রবিবার রিমাণ্ড শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাগুরা গোয়েন্দা শাখার ওসি ইমামুল হক।
তিনি বলেন, আমরা অপরাপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে ইতোমধ্যে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ পেলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ শিশুটির সঙ্গে রয়েছে তার ফুপু শিউলি। মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পরম্পরায় আমরা সকলেই দারুন উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি। এখন পর্যন্ত শিশুটির কোন নাম রাখা না গেলেও হাসপাতাল রেজিস্ট্রারে তার নাম ‘নাজমাস বেবি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাকে সুস্থ্য করে তুলতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানিয়া প্রতি দুই ঘন্টা পর পর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে পুরো বিষয়টি পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ। পুলিশের তত্তাবধানে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া শিশুটিকে দ্রুত সুস্থ্য করে তুলতে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com