প্রথম পাতা » সংবাদ প্রতিদিন » গুলিবিদ্ধ শিশুটি এখনও শংকামুক্ত নন

গুলিবিদ্ধ শিশুটি এখনও শংকামুক্ত নন

গুলিবিদ্ধ শিশুটি এখনও শংকামুক্ত নন

নিজস্ব সংবাদদাতা: দোয়ারপাড়ে যুবলীগের নামধারি দু’গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ গৃহবধু নাজমা এখন ঢাকায়। তার শিশুর সুচিকিৎসার স্বার্থে বৃহস্পতিবার ঢাকায় পাঠানো হয়।
সন্ত্রাসিদের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত শিশুর বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা একজন দুধমা খুজছিলেন। যার পরিপেক্ষিতে স্থানীয় চিকিৎসকরা মায়ের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভাল হওয়ায় তাকেই সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।
মাগুরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মুক্তাদির রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ নাজমা বেগমের অপারেশন পরবর্তি চিকিৎসা দেওয়ার পর সে আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ। তাছাড়া তার গর্ভে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ কন্যা সন্তানটির ঢাকায় চিকিৎসা চলছে। যেখানে শিশুর সুস্থতার জন্য মায়ের উপস্থিতি জরুরি। যে কারণে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে এম্বুলেন্সে করে নাজমা বেগমকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এদিকে নাজমা বেগমকে ঢাকায় পাঠাবার আগে ঐদিন সকালে সকালে তার স্বামী বাচ্চু ভুইয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তার নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, ঘটনার এক সপ্তাহ পরেও অভিযুক্ত মূল আসামিদের পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। যে কারণে তারা নিরাপদ স্থানে থেকেই তাকে ও পরিবারকে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এ সংক্রান্তে দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মাগুরা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাউল হক বলেন, ইতোমধ্যেই সুমন হোসেন এবং সোবাহান নামে দুইজনকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু শুনানি না হওয়ায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। তারপরও পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ কয়েকটি টিমে বিভক্ত হয়ে প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অচিরেই তারা গ্রেফতার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরার দোয়ারপাড় এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা নিয়ে যুবলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে সাড়ে সাত মাসের অন্তঃস্বত্ত¡ গৃহবধু নাজমা বেগম (৩০), তার চাচা শ্বশুর আবদুল মমিন (৬০) এবং মিরাজ (৩০) নামে অপর এক যুবক আহত হয়। এদের মধ্যে আবদুল মমিন ঘটনার পর শনিবার ভোর রাতে মারা যায়।
বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ নাজমা বেগমের অস্ত্রোপচারের পর তার অপরিণত শিশু কন্যাটিকে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। এ ঘটনার পর সন্ত্রাসিদের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। যেখানে বিশেষ ব্যবস্থায় মা ছাড়াই শিশুিিটকে চিকিৎসা চলছে। যে কারণে শিশুটিকে গত এক সপ্তাহ ধরে বাইরে থেকে গুড়োদুধ খাওয়ানো হচ্ছে। তাছাড়া ওই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত নাজমা বেগম তার সন্তানটিকে একটিবারের মতোও দেখতে পায়নি। যে কারণে তার আকুতি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার নাজমা বেগমকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এদিকে বন্দুক যুদ্ধে নিহত আবদুল মমিনের ছেলে রুবেল হোসেন যুবলীগ কর্মী আজিবর, মোহম্মদ আলি, জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি  সেন সুমন হোসেন সহ ১৬ জনকে আসামী করে মাগুরা সদর থানায় মামলা একটি দায়ের করে। যে মামলায় এজাহারভূক্ত দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও মুল আসামিরা ধরাছোয়ার বাইরে থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও শহরের ভায়নার মোড় ও আদর্শ কলেজের সামনে দুটি মানব বন্ধন করে। মানববন্ধন শেষে তারা অবিলম্বে দোষি ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
এদিকে বিভিন্ন গণ মাধ্যমে দোয়ারপাড়ের ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগকে অভিযুক্ত করে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারের ঘটনা। ঘটনাক্রমে ওই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় জেলা ছাত্রলীগের একজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। শুধু তাই নয় মামলায় অভিযুক্তদের বাকি ১৫ জন কোনদিনই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com