প্রথম পাতা » মাগুরা সদর » দোয়ারপাড়ের দুই আসামি রিমান্ডে: মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

দোয়ারপাড়ের দুই আসামি রিমান্ডে: মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

দোয়ারপাড়ের দুই আসামি রিমান্ডে: মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতিদিন ডেস্ক: দোয়ারপাড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবলীগ নামধারি দুটি পরে গোলাগুলিতে গর্ভে থাকা সন্তান গুলিবিদ্ধ এবং হতাহতের ঘটনায় আটক সুমন হোসেন এবং সোবাহানকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়েন্দা কার্যালয়ে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে যা মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল এবং সংশ্লিষ্ট আরো অনেকের সাথে কথা বলে চাঞ্চল্যকর আরো অনেকে তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

দোয়ারপাড়ে  গোলাগুলিতে অন্ত:স্বত্ত্বা গৃহবধূ ও তার গর্ভের সন্তান গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগ বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। অন্যদিকে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কেউই তাদের দায় দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা এখন পুরনো আশ্রয় ছেড়ে নতুন প্রশ্রয়ের সন্ধ্যান করছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। গত ২৩ জুলাই মাগুরার দোয়ারপাড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে বিরল ও নজিরবিহিন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অনেকেই। যার সূত্রপাত আরো দুই মাস আগে বলে জানা গেছে।

মাগুরা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এনামুল হক হিরোক বলেন, অনেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গায়ে যুবলীগের রাজনীতির গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আদৌতেই সেখানে রাজনৈতিক কোন কালচার নেই। তিনি বলেন, শহরতলীর এই পাড়াটি পৌর এলাকার দরিমাগুরা গ্রামেরই অংশ। দলিল দস্তাবেজ, খাতা কলমে দরিমাগুরা নামটি থেকে গেলেও গ্রামের নামটি ছাপিয়ে পাড়ার নামটি আলোচনায় রয়েছে মাদক ব্যবসা আর সন্ত্রাসে সুখ্যাতির কারণে। আর সেদিনকার ঘটনাটির আড়ালেও মাদক আর সন্ত্রাসই তাদের শক্তি যুগিয়েছে। যার সঙ্গে যুবলীগের রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই।

দরিমাগুরা গ্রামের প্রবীণ অনেকের বক্তব্য, দোয়ারপাড় অঞ্চলটির আদিবাসিদের অধিকাংশই কারিকর সম্প্রদায়ের। এছাড়াও নোয়াখালি অঞ্চল থেকে আগত কিছু বসতিও রয়েছে। স্বার্থগত কারণে এই দুটি গোষ্ঠির ভিতর অন্ত:মিল থাকলেও বিরোধ ছিল দরিমাগুরা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের সাথে। যার চূড়ান্ত বহি:প্রকাশ ঘটে ১৯৯০ সালে একটি খুনের ঘটনার ভিতর দিয়ে। সেদিন ওই গোষ্ঠির হাতে খুন হয় ছাত্রলীগ কর্মী দরিমাগুরা গ্রামের বাসিন্দা রেজা। সেটিও ছিল মাদক ব্যবসার ঘটনা নিয়ে। আর এদিনের ঘটনাটির সূত্রপাত মাদক ছাড়াও অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন।

অঞ্চলভিত্তিক এই কোন্দলের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোন সম্পর্কও নেই বলে দাবি করেেছন জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রুবেল। তিনি বলেন, ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সেন সুমনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সে ওই এলাকার বাসিন্দা। তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। কিন্তু কারো ব্যাক্তিগত বিষয়ের দায়ভার ছাত্রলীগ বহন করতে পারে না।

মাগুরার সর্ব শ্রেণীর কাছেই দোয়ারপাড় এলাকাটি মাদকের সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত। যেখানকার অন্তত ১০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞাত খুটির জোরে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে ওই অঞ্চলের যুব সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ভূইয়া। আর তার আজকের প্রতিপ মহম্মদ আলি এক সময় তারই অনুসারি ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় মাস দুয়েক আগে।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কার্তিক নামে এক ব্যক্তি তার বিরোধিয় এক খন্ডজমির দখল বুঝে নিতে কামরুল ভূইয়াদের শরণাপন্ন হন। যেখানে সহযোগির মূল ভূমিকায় ছিল মহম্মদ আলি। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কাজটি সম্পন্ন হলেও কার্তিক বাবুর কাছ থেকে প্রাপ্ত টাকার বখরা থেকে বঞ্চিত হয় মহম্মদ আলি ও অন্যান্যরা। যে বিষয়টি নিয়েই উভয়ের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গত দুই মাসে কামরুল ভূইয়া এবং মহম্মদ আলি সমর্থিতদের মধ্যে একাধিকবার বাদানুবাদ এবং সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। মহম্মদ আলি, সোবাহান, সাগর, আলমগিরসহ বেশ ক’জন গুরুতর জখমও হয়। কিন্তু বিগত সময়ে উভয়ের মধ্যে চলমান বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি। এমনকি পুলিশের কাছেও তেমন কোন অভিযোগ নেই। যে কারণেই প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটেছে বলে এলাকাবাসীর অভিমত।

২৩ জুলাই দোয়ারপাড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলির ঘটনাটি মাগুরার ইতিহাসে প্রথম। যেখানে সাড়ে সাত মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা নাজমা খাতুন গুলিবিদ্ধ হয়। সে ঘটনায় গুলিতে তার গর্ভের সন্তানও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। তার চাচা শ্বশুর আবদুল মোমিন (৬০) এবং মিরাজ (৩০) নামে এক যুবকও আহত হয়। ঘটনার পরদিন আবদুল মোমিন মারা যায়। যে ঘটনার জন্য মহম্মদ আলি গ্রুপের সুনির্দিষ্ট একজনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন গুলিবিদ্ধ নাজমা খাতুন।

ওইদিনের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ নাজমা ও তার গর্ভের সন্তানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল মিরাজকে। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ পরে মিরাজ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও এখন সে পলাতক রয়েছে।

এলাকাবাসি জানিয়েছে, গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণে আহত মিরাজ এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সে দোয়ারপাড়ের চান মিয়ার ছেলে। চান মিয়া মাদকের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেল হাজতে গেছেন একাধিকবার। শুধু তাই নয়, দিরাজ, ফুলমিয়া এবং সিরাজ নামে মিরাজের আরো তিনটি ভাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে দীর্ঘদিন। পুলিশ তারা সহ অন্যান্যদের দমন করতে ব্যর্থ হওয়ায় দিনে দিনে এলাকাটি মাদক ও সন্ত্রাস্যের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দিষ্ট মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কথা বলেন এসআই তরিকুল ইসলাম। তিনি মিরাজ ও তার পরিবারের মাদকের ব্যবসার কথা শুনেছেন বলে জানান। অন্যদিকে গোলাগুলির ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাগুরা গোয়েন্দা শাখার ওসি ইমামুল হক জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিনি মামলার তদন্ত কাজ চালাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামি সেন সুমনসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে সুমন হোসেন ও সোবাহানকে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাবাদ করা হয়েছে। যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং অচিরেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাপর আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com