প্রথম পাতা » মহম্মদপুর » মহম্মদপুরে দোহার বুনে ৫ শতাধিক লোকের জীবিকা নির্বাহ

মহম্মদপুরে দোহার বুনে ৫ শতাধিক লোকের জীবিকা নির্বাহ

মহম্মদপুরে দোহার বুনে ৫ শতাধিক লোকের জীবিকা নির্বাহ

মাহামুদুন নবী: দোহারের গ্রাম নামে খ্যাত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তেলিপুকুর গ্রামটি। এ গ্রামের প্রায় ৩ শত পরিবারের ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ এ পেশার সাথে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। দোহার তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ ও সুতা। বর্ষা ও শরৎ কাল হচ্ছে দোহার তৈরির মৌসুম। তাই তেলিপুকুর গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে এখন দোহার তৈরির ধুম চলছে। পরিবারের পুরুষরাই সাধারণত এ শিল্প তৈরি করে থাকেন। তাদের সাথে সহযোগিতা করে থাকেন নারী ও শিশুরা।

এ পেশার সাথে জড়িত রহমত বলেন, একটা দোহার তৈরিতে গড়ে খরচ হয় ২৮ থেকে ৩০ টাকা। তারা মহাজনের নিকট বিক্রি করেন ৪০ থেকে ৪২ টাকা। অথচ মহাজনরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা বিক্রি করেন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। তেলিপুকুর গ্রামের দোহার শিল্পী কবির মিয়া জানান, বর্তমানে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তবে উপায়ন্তর না থাকায় সামান্য লাভেই মহাজনের নিকট দোহার বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে একাধিক পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দোহার বুননই তাদের একমাত্র পেশা। এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষের কোন চাষের জমি না থাকায় তারা বহুদিন ধরে এ পেশার সাথে জড়িত । জিয়া, শরিফুল, খোরশেদ নুর ইসলাম, নবিরন, বানু ও রুপসি জানান, দোহার বুনে তাদের যা উপার্জন হয় তা দিয়ে তাদের সংসার খুব ভালো ভাবেই চলে।

মহম্মদপুরের তেলিপুকুর গ্রামের ৫ শতাধিক নারী-পুরুষের হাতে বোনা এ দোহার রপ্তানি হচ্ছে মাদারিপুর, রাজবাড়ি, পাংশা ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আবার এ গ্রামের যাদের দোহার তৈরির উপকরণ কেনার সামর্থ নেই তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে দোহার তৈরি করে উপার্জন করে সংসার চালিয়ে থাকেন। তবে এখানকার অধিকাংশ কারিগররা অভিযোগ করে বলেন, মহাজনরা তাদের কাছ থেকে খুব কম দামে দোহার কিনে অধিক মূল্যে বিক্রি করে থাকেন। এতে তারা নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মহম্মদপুর উপজেলা সদর থেকে ২ কিলো মিটার দুরে অবস্থিত তেলিপুকুর গ্রামে প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস। শিক্ষার হার খুবই কম। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অনুন্নত। ২টা প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকা সত্বেও স্কুলে শিশুদের উপস্থিতি কম। গত বৃহস্পতিবার সকালে তেলিপুকুর গ্রামের অভ্যন্তরে অবস্থিত কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি অনেক কম। প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, স্কুলে ভর্তি থাকা সত্বেও অনেক ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত উপস্থিত হয়না। তারা দোহার তৈরিতে অধিকাংশ সময় মা-বাবাকে সাহায্য করে থাকেন। তবে উপস্থিতি বাড়াতে তারা সব সময় অবিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com