প্রথম পাতা » ব্রেকিং-নিউজ » আলোকদিয়‍া হাইস্কুল : মৃত ব্যক্তির নামে ছাত্রী শ্লিলতাহানির দায়!

আলোকদিয়‍া হাইস্কুল : মৃত ব্যক্তির নামে ছাত্রী শ্লিলতাহানির দায়!

আলোকদিয়‍া হাইস্কুল : মৃত ব্যক্তির নামে ছাত্রী শ্লিলতাহানির দায়!

প্রতিদিন ডেস্ক :
মাগুরায় সদর উপজেলার আলোকদিয়া পুখরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীর শ্লিলতাহানি ঘটিয়েছেন ১৮ বছর আগে মৃত ওই বিদ্যালয়ের এক এমএলএসএস। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দেয়া শোকজ নোটিশ থেকে মিলেছে এই তথ্য। যা নিয়ে এলাকায় দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সদর উপজেলার পুখরিয়া গ্রামের বদরুদ্দিন শেখের ছেলে আকবর হোসেন। এমএলএসের চাকরি করেন আলোকদিয়া পুখরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছেন বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন মেয়েটির বাবা। অভিযোগ পাবার পর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মিটিং করে শোকজ নোটিশও করেছেন। কিন্তু নোটিশটি ইস্যু করা হয়েছে ফরিদপুরের গয়েশপুর গ্রামের তালেব বিশ্বাসের ছেলে আবদুর রউফ বিশ্বাসের নামে। যিনি ১৯৯৭ সালে মারা গেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন শ্লিলতাহানির অভিযোগটি একজন মৃত মানুষের গায়ে চাপানো হলো। সেই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে মিললো চাঞ্চল্যকর আরো অনেক তথ্য।
আলোকদিয়া পুখরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন শিক্ষক, স্কুল কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গ্রামবাসী সহ আরো অনেকের সাথে কথা বলে চাঞ্চল্যকর সেইসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শামসুর রহমান মোল্যা, ক্রিড়া শিক্ষক মুজাহিদসহ অন্যান্যরা জানান, বিদ্যালয়টির প্রাক্তণ হেড মাস্টার ছিলেন আবদুল গফুর বিশ্বাস। তিনি কর্মরত থাকাকালিন সময়ে ১৯৭৪ সালের ১ মে তারিখে ছোট ভাই আবদুর রউফকে এমএলএস পদে চাকরিতে নিয়োগ দেন। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে কখনোই আবদুর রউফ বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। অথচ তার নামে ছাড়কৃত বেতন ভাতাদি স্কুল কমিটি তুলে আত্মসাথ করে এসেছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের পূর্বতন প্রধান শিক্ষক আবদুল গফুর চাকরিরত অবস্থায় মারা যাওয়ায় ১৯৮২ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন গোলজার হোসেন। তিনি দায়িত্বরত অবস্থায়ও আবদুর রউফ তখনো বিদ্যালয়ে এমএলএসের চাকরি করতে আসেনি। অথচ তার সময়ও আবদুর রউফের নামে ছাড়কৃত বেতন ভাতাদি একই ভাবে তুলে নেয়া হয়।
নজরুল ইসলাম নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ১৯৯৭ সালের দিকে আবদুর রউফ মারা গেলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে পদটি শূণ্য ঘোষণা না করে পুখুরিয়া গ্রামের বদর উদ্দিন শেখের ছেলে আকবর হোসেনকে ডেকে আবদুর রউফের প্রক্সির দায়িত্ব দেয়া হয়। তারপর থেকেই আকবর হোসেন ‘আবদুর রউফ’ সেজে চাকরি করার পাশাপাশি বেতন ভাতাদি তুলে নিচ্ছে। যার সুবিধা গ্রহণ করছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অন্যান্যরাও। কিন্তু বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীর অভিভাবক আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে শ্লিলতাহানির অভিযোগটি উত্থাপন করলে নোটিশ করতে হয়েছে মৃত আবদুর রউফের নামেই। কেননা আকবর হোসেন মৃত আবদুর রউফের নামেই চাকরি করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আকবর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে আবদুর রউফ বলে দাবি করেন। তবে বিদ্যালয়টিতে আবদুর রউফের নিয়োগ ১৯৭৪ সালে হলেও আকবর হোসেন সেখানে ১৮ বছর ধরে পিওনের কাজ করছে বলে জানান। তিনি বলেন, আমি অশিক্ষিত মানুষ, কিছু জানিনা। গোলজার স্যার আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছে। তাই করছি। মাস গেলে বেতন দেয়। এতেই আমি খুশি।
তবে আকবর হোসেনের স্বীকারোক্তির দ্বিমত পোষণ করে বক্তব্য দিয়েছেন পূর্বতন প্রধান শিক্ষক গোলজার হোসেন। তিনি বলেন, আমার সময়ে ওই পদে রউফ বা আকবর কাউকেই নিয়োগ দেয়া হয়নি। এমন ভয়াবহ দূর্ণীতির সঙ্গে আমার কোন সম্পর্কও নেই।
এদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির নামে শ্লিলতাহানির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় এবং নোটিশ জারি করায় মৃত আবদুর রউফ বিশ্বাসের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
আবুল হোসেন নামে আবদুর রউফের এক নিকাটাত্মিয় বলেন, দুই যুগ আগে মারা গেছেন রউফ চাচা। অথচ স্কুল কমিটি শ্লিলতাহানির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে এটি খুবই অসম্মান জনক।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক অসিত শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেয়েটির বাবার মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আববর হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে। যার প্রকৃত নাম আবদুর রউফ বিশ্বাস বলে জানি। এখানে মৃত কোন ব্যক্তির হয়ে আরেকজন চাকরি করছে কিনা সেটি জানা নেই।
বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু সাইদ সানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কোন মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে সেখানে অন্য কেউ চাকরি করছেন কিনা জানি না। এমন কিছুর প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com