প্রথম পাতা » মহম্মদপুর » ঘুষ ছাড়া কোন দলিলেই স্বাক্ষর করেন না সাবরেজিষ্টার আমেনা বেগম

ঘুষ ছাড়া কোন দলিলেই স্বাক্ষর করেন না সাবরেজিষ্টার আমেনা বেগম

ঘুষ ছাড়া কোন দলিলেই স্বাক্ষর করেন না সাবরেজিষ্টার আমেনা বেগম

প্রতিদিন ডেস্ক : দলিল ও পর্চাসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র যতই ঠিক থাকুক না কেন, জমি রেজিষ্ট্রি করাতে গেলে টাকা লাগবেই। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা যিনিই হোন না কেন তাতে কিছুু আসে যায় না। মূলত ঘুষ ছাড়া কোন দলিলেই স্বাক্ষর করেন না সাব-রেজিষ্টার আমেনা বেগম। প্রচণ্ড প্রতাপশালী এই সাব-রেজিষ্টার বর্তমানে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দায়িত্বে আছেন।
নিজ স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেই যাকে তাকে সাসপে- করেন তিনি। তাই খুন শিকার হলেও কোন দলিল লেখকই তার বিষয়ে মুখ খোলেন না। তবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এ যাবত অনেক অফিসারই এসেছেন। তবে আমেনা বেগমের মতো এমন অর্থ লোলুপ কর্মকর্তা কমই পাওয়া গেছে।
সাব-রেজিষ্টার আমেনা বেগমের এ ঘুষ বাণিজ্যের কথা এখন শ্রীপুরে ওপেন সিক্রেট। তবে পত্রিকায় নাম প্রকাশের ক্ষেত্রে বা সাংবদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে সকলেই নারাজ। সংশিষ্টদের বদ্ধমূল ধারনা, এদের নেটওয়ার্ক খুবই শক্ত এবং উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই স্বার্থের বিষয়ে এক।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, সাব-রেজিষ্টার আমেনা বেগম সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার এই দুই দিন অফিস করেন। অফিস টাইম সকাল ৯ টায় হলেও অধিকাংশ দিনে তিনি সাড়ে ১২ টা থকে ১ টার মধ্যে অফিসে আসেন। আবার বেলা ২ টার পরে দলিল পত্র প্রস্তুত করে রেজিষ্ট্রি করাতে গেলেই প্রতি দলিলে ৫ শত টাকা হারে লেট ফাইন আদায় করা হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, কোন হিন্দু ব্যাক্তির জমি কবলা রেজিষ্টি অথবা দানের ঘোষনা করাতে গেলেই বাধে সবচেয়ে বিপত্তি। এক্ষেত্রে কাগজ-পত্র যতোই ঠিক থাক না কেন প্রতি দলিলে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা হারে ঘুষ না দিলে আমেনা বেগম সই করেন না। অথচ কোন দাতা তার নিজের স্ত্রী-সন্তান বা স্বামী-সন্তানকে জমি দানের ঘোষনা করাতে গেলে ন্যুনতম সরকারী ফিস দিলেই রেজিষ্ট্রি হয়ে যাওয়ার কথা।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, অতি সম্প্রতি শ্রীপুর উপজেলার আমলসার গ্রামের বয়োবৃদ্ধ সুফিয়ার রহমান তার নিজ নামীয় সম্পতি নিজের স্ত্রী ও মেয়ের নামে হেভা ঘোষনা (দানের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি) করাতে গেলে সাব-রেজিস্টার আমেনা বেগম এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। অনেক দেনদরবার করে অবশেষে ২৫ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে তিনি সেই জমি রেজিষ্ট্রি করে দেন। অথচ নিজের স্ত্রী বা সন্তানকে জমি দান করার ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে ১ হাজার টাকা খরচ হয়।
সুফিয়ার রহমান জানান, বয়সের ভারে তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন না। শরীর খুব খারাপ বিধায় সময় থাকতে তার সম্পতি নিজের স্ত্রী ও কন্যার নামে লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর মেয়ে সোনিয়া আফরিন লতার নামে ৬ একর ৭৭ শতাংশ এবং স্ত্রী আনোয়ারা নামে ৭৪ শতাংশ জমি হেভা ঘোষনা অর্থাত্ দান করা হয়েছে। সুফিয়ার রহমান বলেন, সাব-রেজিষ্টার তার দলিল লেখকের মাধ্যমে প্রথমে ১ লাখ এবং তারপর ৬০ হাজার টাকা ঘূষ দাবি করেন। তবে অনেক দেনদরবারের পরে ২৫ হাজার টাকা রফা হলে সাব-রেজিষ্টার তা রেজিষ্ট্রি করে দেন।
আপনার কাগজ-পত্রে কি ত্রুটি ছিল যে আপনি ঘুষ দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি করালেন? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে সুফিয়ার রহমান বলেন, বাবা, আমার শরীর এতটাই খারাপ ছিল যে মনে হচ্ছিল যেকোন সময় পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারি। মৃত্যুর আগে সম্পত্তির একটা সুষ্টু বন্টন করতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই আমি ঘুষ দিয়ে কাজ করেছি।
তিনি আরো জানান, জমির দলিল, পর্চা, হাল রের্কড ও খাজনা পরিশোধের দাখিলা সবই ঠিক ছিল। কিন্তু এতো পরিমান জমি দেখে সাব-রেজিষ্টার ঘুষ ছাড়া জম রেজিষ্ট্রি করতে অস্বীকার করেন।
এর আগে গত ২ মাস আগে মহম্মদপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে অব: ডিআইজি আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে অফিস কেরানী মোতালেব জমাদ্দারের মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা ঘুষ নেন আমেনা বেগম। তখন আলতাফ হোসেন ক্ষুব্দ হয়ে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান। এ ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে সে সময় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
মহম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে সাব-রেজিষ্টার আমেনা বেগম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি ষড়যন্ত্র। আমার ইমেজ ক্ষুন্ন করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তাছাড়া আমি ঘ্ষু চাইলে তিনি জমি রেজিস্ট্রি না করে আগে অভিযোগ দিতে পারতেন। তা দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com