প্রথম পাতা » মহম্মদপুর » মহম্মদপুরবাসীর দুঃখ বাসস্ট্যান্ড সড়কের দুইশ গজ

মহম্মদপুরবাসীর দুঃখ বাসস্ট্যান্ড সড়কের দুইশ গজ

মহম্মদপুরবাসীর দুঃখ বাসস্ট্যান্ড সড়কের দুইশ গজ

আনোয়ার হোসেন শাহীন :
মহম্মদপুর উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে বাসস্ট্যান্ড এলাকার দুইশ’ গজ সড়ক বিশ বছরেও সংস্কার হয়নি। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারীরা। সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বাজারের নোংড়া আবর্জনা ও পচাঁ কাঁদা-পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।
সদরের ‘প্রবেশদ্বার খ্যাত’ সড়কটি সবাইকে ব্যবহার করতে হয়। উপজেলা শহরে যতায়াতকারী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজনের বেহাল সড়কে চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে ‘ভোগান্তি’ সড়ক নামে পরিচিতি। বিক্ষুব্ধ লোকজন সড়কে ধান লাগিয়ে মাছ ছেড়ে নানা ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েও কোন ফল পাননি।
ভূক্তভোগিরা জানান, সমান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বড় বড় গর্ত পানিতে ডুবে থাকে। গর্তে গাড়ির চাকা ও পথচারীর পা আটকে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। বৃষ্টির পানিতে নোংড়া আবর্জনা ও কাদায় সয়লাব পুরো রাস্তা। কাদা মাড়িয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচল করতে হয়। কাপড় আর গা বাচিয়ে সড়ক পার হওয়ার উপায় নেই।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট সংস্কারের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি)। এই সড়কটির তদারকি প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) । সহওজ’র কার্যালয় জেলা শহরে অবস্থিত। বরাদ্দ নেই এমন অজুহাতে ২০ বছরের বেশি সময় সড়কটি সংস্কার করছে না ।
চিকিত্সা, ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দাপ্তরিকসহ বিভিন্ন কাজে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা শহরে যাতায়াত করেন। স্বল্প সময়ে ফরিদপুর ও নড়াইলে যেতেও লোকজন সড়কটি ব্যবহার করেন। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা সড়কটির বেহাল দশা দেখলে মনে হয়, এ নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই।
উপজেলা সদরের আর.এস.কে.এইচ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক সাজ্জাদুল আলম আক্ষেপ করে বলেন, উপজেলা শহরের প্রধান সড়কটির এ বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে চরম ভোগান্তি নিয়ে এ পথে আমাদের চলতে হয়। তিনি ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার দাবী জানান।
স্কুল শিক্ষিকা সেলিনা পারভীন বলেন, দুটি কলেজসহ পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে নিরুপায় হয়ে এই ‘ভোগান্তি’ সড়ক পার হতে হয়। প্রসূতি মা ,রোগী ও বৃদ্ধদের কাছে এ সড়কটি এখন আতঙ্কের নাম।
সড়কে নিয়মিত চলালকারী ভ্যান চালক আবদুল কাইয়ুব, ইজিবাইক চালক তানজিলুর রহমান সহ স্থানীয় আরো অনেকে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা চলেন কোটি কোটি টাকার দামি গাড়িতে। তাদের চলাচলে কোন সমস্যা হয়না। কিন্তু আমাদের সম্ভল বলে যে গাড়ি তা কয়দিনেই লক্কর ঝক্কর হয়ে যায়। বিকল হয়ে পড়ে থাকলে ছেলে মেয়ে নিয়ে পথে বসতে হবে। তখন আবার তারা দামি গাড়ি দিয়ে আমাদের গায়ে কাদা ছিটিয়ে চলে যাবে। আমাদের কি হলো কি হলো না তাতে তাদের কিছুই আসে না।।
স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, পায়ে হেটে রাস্তাটি পার হওয়া সম্ভব নয়। বেহাল এ সড়ক নিয়ে অতীতে অনেক রাজনীতি হয়েছে। মাগুরা-২ আসনের বর্তমান সরকার দলীয় সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট বীরেন সিকদার নির্বাচনের আগে ও পরে একাধিকবার সড়কটি সস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও কোন উদ্যেগ নেওয়া হয়নি।
মাগুরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত জানান, ‘বর্ষা মৌসুমের পর সড়কটি সংস্কারের উদ্যেগ নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com