প্রথম পাতা » Featured » কুকুরের কামড়ে ২০ জন আহত : প্রতিরোধের কোন উপায় নেই

কুকুরের কামড়ে ২০ জন আহত : প্রতিরোধের কোন উপায় নেই

কুকুরের কামড়ে ২০ জন আহত : প্রতিরোধের কোন উপায় নেই

প্রতিদিন ডেস্ক : কুকুরে কামড়ের শিকার হয়ে বুধবার মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ২০ জন রোগি ভ্যাকসিন নিয়েছে। কামড়ের শিকার আরো বেশি হতেও পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পাগলা কুকুর নিধণের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় স্থানীয় সাধারণ জনগণ দারুণ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাগুরা সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগিরা ভোরবেলা কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে। যাদের মধ্যে দুপুর পর্যন্ত মাগুরা সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামের তুরান (৮), শ্রীকুন্ডির তরিকুল ইসলাম (১৪), ঘোড়ামারার শান্তা খাতুন (১৬), নিজনান্দুয়ালীর দিপ্তি খাতুন (২২), মহম্মদ আলী (৫৫), কুকনা গ্রামের মুরাদ হোসেন (২০), খানপাড়ার সেলিম বিশ্বাস (২৫), পারনান্দুয়ালীর মান্নান মিয়া (৬৮), আনোয়ার হোসেন (৪০), সুমন হোসেন (৩৪), অনিক মিয়া (২৭), বাতাসি বেগম (৫০), ভায়না গ্রামের জুলফিকার (২০), আলী (২০), জগদলের আকতার মিয়া (৪০), পারলা গ্রামের জাকিয়া বেগম (৫৫), শালিখা উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের শিশু ফাতেমা (৭), মহম্মদপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া গ্রামের সোমা (২), ধুপুরিয়ার আখি (৫) ও মহম্মদপুর সদর এলাকার নিত্য বিশ্বাস (৬০) মাগুরা সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে।

এদিকে একদিনে হঠাত করে অনেক রোগি হাসপাতালে আসলেও ভ্যাকসিনের কোন সংকট না থাকলেও একদিনে এত মানুষকে কামড়ানোর বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত সিনিয়ার ষ্টাফ নার্স শাহনাজ পারভিন।

তবে বিষয়টি নিয়ে মাগুরা পৌর মেয়র ইকবাল আকতার খান কাফুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কুকুর নিধণের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যে কারণে এ বিষয়ে সকলের সতর্ক থাকা ছাড়া বিকল্প কোন উপায় নেই।

মাগুরা সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, মাগুরায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭ জন মানুষ বা প্রাণী কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছে। তাছাড়া এ অঞ্চলের অধিকাংশ কুকুরই বেওয়ারিশ শ্রেণীর ও সংখ্যায় বেশি। যাদের ভিতর ক্ষিপ্রতা বেশি। নবাগত কোন মানুষ বা প্রাণীকে পেয়ে এদের আক্রমণ করার প্রবণতা রয়েছে। যেটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। যে কারণে আক্রান্তের হারও অন্য যেকোন জেলার চেয়ে এখানে বেশি।

মাগুরা সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবদুল লতিফ জানান, পরিবেশবাদিদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তারা বিকল্প কোন পন্থা বাতলে দেননি। এতে করে প্রাকৃতিক ভাবেই মাগুরার মতো অঞ্চল গুলোতে মালিকানাবিহিন কুকুরের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যার শিকার হচ্ছে এসব এলাকার সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় স্থানীয় সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে গেলে বেওয়ারিশ কুকুরের বৃদ্ধি হ্রাস জরুরি।

তিনি বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের বৃদ্ধি কমাতে বন্ধাত্বকরণ ভ্যাকসিন প্রয়োগের কথা বলা হলেও সরকারিভাবে কখনো এ জাতীয় ভ্যাকসিনের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। বিধায় স্থানীয় সাধারণ জনগণকে কুকুর থেকে সাবধান থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই।

এ অবস্থায় কুকুরের কামড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিকল্প পরিকল্পনা নেয়া উচিত। নাহলে এ এলাকার সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে থেকেই যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com