প্রথম পাতা » মহম্মদপুর » ঢাকায় এসআই হত্যাকাণ্ড : মহম্মদপুর দুই স্কুলছাত্র আটক

ঢাকায় এসআই হত্যাকাণ্ড : মহম্মদপুর দুই স্কুলছাত্র আটক

ঢাকায় এসআই হত্যাকাণ্ড : মহম্মদপুর দুই স্কুলছাত্র আটক

মহম্মদপুর সংবাদদাতা : ঢাকার দারুস সালামে একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন দুই আসামীকে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা শিরগ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হচ্ছে, শিরগ্রামের রাশেদ শেখের ছেলে আয়াতুল্লাহ (১৪) ও পাশ্ববর্তি বিলঝলমল গ্রামের বারেক মোল্যার ছেলে রিপন মোল্যা (১৫)। তারা দুজনই পাল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনিয়মিত জেএসসি পরীক্ষার্থী।
স্থানীয় বাবুখালী পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এএসআই মিজান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের সাদা পোশাকের একটি টিম তাদের আটক করে নিয়ে যায়। পুলিশ তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন সেট ও সিম উদ্ধার করেছে।
ঢাকা থেকে আসা পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন দারুস সালাম থানায় একটি হত্যা মামলায় দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত মোবাইল সেটের সুত্র ধরে তাদের আটক করা হয়েছে। তবে কোন হত্যা মামলা তাদের আটক করা হয়েছে তা আগত পুলিশ কর্মকর্তার জানায়নি। তাদের কাছ থেকে দুবৃৃত্তদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল সেট ও একাধিক সিম উদ্ধার হয়েছে। অটককৃতরা পুলিকে জানিয়েছে চাকরির কথা বলে রিপন সম্প্রতি ঢাকা শহরে যায়। ঢাকা থেকে একটি দামি মোবাইল এনে আয়াতুল্লাহর কাছে বিক্রি করে। রিপন এই মোবাইল ফোনটি ঢাকা অবস্থানরত প্রতিবেশি যুবক আকিদুল ও লিটনের কাছ থেকে নিয়ে এসেছে। অটক অভিযানে দারুসসালাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুফুল আলম ও ডিএমপির এসআই মো. মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের সাদা পোশাকের পুলিশের একটি দল এসেছিল। আটকের পর-পরই দুইজনকে নিয়ে পুলিশ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বলে জানান এএসআই মিজান।
পাল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন আটক দুই ছাত্র বখাটে প্রকৃতির। কয়েকবার লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। এলাকার মানুষের অনুরোধে তার স্কুলে আবার ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ আগে অপরাধমূলক কাজের জন্য তারা দু’জনই যশোর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে আটক ছিল। অনিয়মিত ছাত্র হিসেবে এবছর তারা জেএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ঢাকায় অবস্থানরত আকিদুল ও লিটন নামে স্থানীয় যে যুবকদের কাছ থেকে রিপন মোবাইল এনেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে ওই দুই যুবক ডাকাকিসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের আইসি ও ঢাকা থেকে আসা পুলিশ সদস্যরা ওই দুই ছাত্রকে আটকের ব্যাপারে তার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তিনি সহযোগিতা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঢাকার একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে। তবে কোন হত্যা মামলা পুলিশ তাকে বলেনি। বরং বিয়ষটি তাকে গোপন রাখতে বলেছে।
দারুসসালাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুকুল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মাগুরার মহম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাখাওয়াত ইসলাম বলেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিয়াজুল ইসলাম ছুটিতে। তবে তিনি জানান, গাবতলীতে দুর্বৃত্তদের হাতে পুলিশের এএসআই ইব্রহিম হত্যার পরদিন দারুস সালাম থানায় অন্য একটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। সে হত্যাকান্ডের শিকার ব্যাক্তি ও দুর্বৃদের ব্যবহৃত মোবাইল সেটের সুত্র ধরে ওই দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে ঢাকা থেকে আসা পুলিশ সদস্যরা তাকে জানিয়েছে। আটককৃতদের কাছ থেকে পুলিশ তিনটি মোবাইল সেট ও সিম উদ্ধার করেছে। এই অটকের সাথে এএসআই ইব্রাহিম হত্যাকান্ডের কোন সম্পৃক্ততার কথা তার জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com