প্রথম পাতা » Featured » মাগুরায় দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা দিয়ে শুরু হল দুর্গা উত্সব

মাগুরায় দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা দিয়ে শুরু হল দুর্গা উত্সব

মাগুরায় দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা দিয়ে শুরু হল দুর্গা উত্সব

মাগুরা প্রতিদিন ডেস্ক : ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনায় শুরু হল বাঙালি সনাতন ধর্মবলম্বিদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব শারদীয় দুর্গা পূজা। আনন্দময়ী দেবী দুর্গার আগমনী গানে এখন চারদিক মুখরিত। মহাষষ্ঠীতে বোধনের মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজা শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে।

মহাশক্তি মহামায়া দুর্গতিনাশিনী দুর্গা এবার স্বামীর গৃহ কৈলাস থেকে বাবার বাড়ি বসুন্ধরায় আসছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে। আর ফিরবেনও ঘোড়ায় চড়ে। এদিন (শুক্রবার) দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধে খড়গ-কৃপাণ, চক্র-গদা, তীর-ধনুক আর ত্রিশুলহাতে হাজারো মন্ডপে অধিষ্ঠিত হলেন।

শুক্রবার সকালে মাগুরার সকল পূজামণ্ডপে দেখা গেছে উত্সবের আমেজ। মহাষ্টমীর দিনে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে কুমারী পূজো অনুষ্ঠিত হবে। দেবী বোধন ও অধিবাস সহকারে ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হলো পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোত্সব। শাস্ত্র মতে, এবার মা দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে আসার কারণে বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে বলে হিন্দু পুরোহিতরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী এ বছর মাগুরায় ৫৮০টি সহ সারাদেশে ২৯ হাজার ৩৯৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। তবে মাগুরায় সবচেয়ে বড় এবং জাকজমকভাবে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে সদর উপজেলার পুখরিয়া গ্রামে পুখরেশ্বরি মন্দিরে।

মাগুরায় পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গা মন্ডপে চলবে ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, মহাপ্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যায় আরতি প্রতিযোগিতা। বিজয়া দশমীর দিন বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোত্সব। বিজয়া দশমী উপলক্ষে ১১ অক্টোবর সরকারি ছুটি।

দুর্গা পুজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মুহ. মাহবুবর রহমান, পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি তানজেল হোসেন খান, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড. প্রদ্যুত কুমার সিংহ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভূজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পকাল পিতার গৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোত্সবের। একটি বছরের জন্য ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবী ফিরে যাবেন কৈলাসে দেবালয়ে।

সনাতন ধর্মাবলম্বিদের বিশ্বাস, ত্রেতাযুগে ভগবান রাম তার স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করতে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেন। ব্রহ্মার নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গার সাহায্যে রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করেন তিনি। দেবির সেই আগমণের সময়ই দুর্গোত্সব। রাম শরত্কালে দেবীকে আহ্বান করেছিলেন বলে এ পূজা শারদীয় দুর্গা পূজা নামেও পরিচিত। আর মর্ত্যলোকে আসতে দেবীর সেই ঘুম ভাঙানোকে বলা বলা হয় অকাল বোধন। অকাল বোধন কেন? পুরোহিতরা বলছেন, দুর্গা দেবীর প্রকৃত আগমনের সময় চৈত্র মাস। অর্থাত্ বসন্ত কাল। চৈত্র মাসে যে দুর্গা পূজা হয় তাকে বলা হয় বাসন্তী পূজা। তবে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে শারদীয় পূজাই সবচেয়ে বড় উত্সব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com