প্রথম পাতা » কুষ্টিয়া » ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হেকেপ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা ছয় নয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হেকেপ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা ছয় নয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হেকেপ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা ছয় নয়

ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাথ এবং প্রকল্প পরিচালনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অনিয়ম আর দূর্ণীতি আর অনিয়মের অভিযোগ খোদ প্রকল্প ম্যানেজার আইন বিভাগের বহুল আলোচিত শিক্ষক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধেই।

তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা প্রকল্প- হেকেপ এর কাজ যথাযথ বাস্তবায়নে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কমিটির কোন সদস্যের সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই ওই প্রকল্পের ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইচ্ছেমতো কাজ করে চলেছেন। সম্প্রতি এ প্রকল্প থেকে সাবিয়া সুলতানা নামক এক কর্মকর্তাকে কোন কারণ ছাড়াই বাদ দিয়ে সার্কুলার ব্যতীত তার এক আত্মীয়কে চাকুরী দানের মধ্য দিয়ে তিনি তার স্বেচ্ছাচারিতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয় তার এই স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় কমিটির অন্য শিক্ষকেরা তারা রোশানালেও পড়েছেন।

প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সদস্য এবং একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মন্ডল উক্ত প্রকল্পের একজন সদস্য হিসেবে প্রজেক্ট ম্যানেজারের দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় তার উপর নেমে আসে নানা হয়রানি ও হুমকি। ফলে তিনি ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের যাবতীয় মিটিং, স্বাক্ষর ও অন্যান্য কার্যাবলী থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। এ সকল অপকর্ম থেকে নিজেকে রক্ষা করতে জহুরুল ইসলাম হেকেপের টাকায় বিভাগ থেকে কোনরুপ ছুটি না নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত সিনিয়র শিক্ষক ড. তোহা ও সাজেুদর রহমান টিটুকে সাথে নিয়ে সম্প্রতি আমেরিকা ভ্রমনে যান। বিভাগকে না জানিয়ে বিতর্কিত ছুটি নিয়ে আমেরিকা ভ্রমন বিষয়ে সাধারণ শিক্ষকেরা ফুঁসে উঠেছে।

গত ৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের প্রায় ৫০ জন ছাত্র ওই দূর্নীতিবাজ শিক্ষকের ডিন অফিসে গিয়ে হেকেপের টাকা আত্মসাতের বিষয় তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, হেকেপ প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক ড. করিম খানের নামে অর্ধ কোটি টাকা ব্যায়ে অত্যাধুনিক রুম বানিয়ে তার আস্থাভাজন শিক্ষক সাজেদুর রহমান টিটুকে প্রদান করেছেন। তিনি ওই প্রকল্পের ৪ নম্বর সদস্য মাত্র। জহুরুল ইসলাম হেকেপের টাকায় একটি রাজপ্রাসাদ রুম বানালেও সেখানে হেকেপের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী প্রবেশ করতে পারে না। সেটা এখন জমিদার জহুরুলের খাস কামরা। জহুরুল ইসলাম ছাত্রজীবনে ছিলেন শিবিরের একজন সক্রিয় কর্মী। চাকুরীর সুবাদে হয়ে যান আওয়ামীলীগ। কিন্তু ফাঁসিতে মৃত্যু কসাই কাদেরের নিকট আত্মীয় হওয়ায় মাঝে মাঝে শেকড়ে ফিরে যান। গত ওয়ান ইলেভেনের সময় রাতারাতি কোরেশের দলে যোগদান করেন। এরপর ড. ইউনুস দল গঠনের কথা বললে বুনে যান ইউনুসের দলে। এরপর চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে রাতারাতি আওয়ামীলীগ হয়ে যান। স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে এসব অভিযোগ জানা গেলেও সম্প্রতি তারা অজ্ঞাত কারণে নিরবতা পালন করছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আমেরিকা ভ্রমন শেষে তিনি বিভাগে যোগদান না করেই জহুরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার এইচ ইউনিটের সমš^য়কারী হিসেবে ২৭ অক্টোবরের স্বাক্ষরে ২৯ অক্টোবরে একটি মিটিং আহবান করেন। কিন্তু বিভাগের সভাপতি প্রশ্ন তোলেন উক্ত তিন শিক্ষক আমেরিকা ভ্রমন শেষে বিভাগে যোগদান করেছে কি-না সে বিষয়ে তিনি অবহিত না থাকায় উক্ত মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি মাননীয় ভিসি মহোদয়কে অবহিত করেন। যে ঘটনার প্রেক্ষিতে উক্ত তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন এমনটিই আশা করছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অভিযোগ মতে নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতির মাধ্যমে প্রজেক্ট ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম হেকেপ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা নিজস্ব সম্পদে পরিণত করলেও কোন প্রকার জবাবদিহিতার ভিতর দিয়েই চলেন না তিনি।

এ বিষয়ে হেকেট প্রজেক্ট ম্যানেজার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি বারবারই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com