প্রথম পাতা » Featured » ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নী উৎসবে মেতে উঠেছে মাগুরাবাসি

ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নী উৎসবে মেতে উঠেছে মাগুরাবাসি

ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নী উৎসবে মেতে উঠেছে মাগুরাবাসি

মাগুরা প্রতিদিন ডেস্ক : রবিবার থেকে শুরু হয়েছে মাগুরার ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নি উৎসব। হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও গত ত্রিশ বছরে মাগুরায় এটি সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।

এই উত্সবকে ঘিরে ইতোমধ্যেই নান্দনিক শিল্পকলা আর বর্ণিল রঙে সাজানো হয়েছে সারা শহর। মণ্ডপ আর মেলায় আনা হয়েছে নানান বৈচিত্র। তবে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকলে উৎসব অন্যান্য বারের চেয়ে আরো বিনোদনময় হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

প্রতিবছর সারদিয়া দুর্গা পূজার ঠিক ১ মাস পরে অধিক জাকজমকপূর্ণভাবে মাগুরায় এই উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। এ বছর মাগুরা শহরের পৌর এলাকার ১১টি সহ সারা জেলায় মোট ৮৪টি মন্দির ঘিরে কাত্যায়নি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তারমধ্যে নানা বৈচিত্রের সম্ভার ঘটবে পৌর এলাকার মন্দিরগুলোতে। যেগুলোকে সামনে রেখে সারা শহরে ও প্রবেশমূখে সুদৃশ্য তোরণ, বর্ণিল রঙে ও আলোকচ্ছটায় আলোকিত করা হয়েছে। আর এই বর্ণিল পরিবেশের উৎসবে প্রতিবারের মতো এবারো অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থিদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তি নেপাল ও ভারত থেকেও উৎসাহিরা ছুটে আসবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নি উৎসবের শুরু হলেও দর্শনার্থিদের আগমনে মুখর হয়ে উঠবে পরদিন থেকে দশমি পর্যন্ত। তবে এটিকে ঘিরে আয়োজিত মেলা চলবে আরো পনের দিন। যেখানে নাগর দোলা, পুতুল নাচসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা আয়োজন স্থান পেয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশের দূর দূরান্ত থেকে ব্যবসায়িরাও মেলায় তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছে।

সূত্র মতে, ১৯৫০ সালের দিকে শহরে পারনান্দুয়ালি এলাকার জনৈক সতিশ মাঝি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম এ পূজা শুরু করেন। পেশায় তিনি মুদি ব্যবসায়ি হলেও তার গোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী হওয়ায় দূর্গা পূজার চেয়ে এই পূজার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখান। আয়োাজকদের দাবি, ভরা বর্ষা মৌসুমে পেশাগত কারণে স্থানীয় মৎসজীবিরা বিভিন্ন নদীতে মাছ শিকারে যেত। যে কারণে সে সময়ে অনুষ্ঠিত দূর্গা পূজায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য দুরূহ বিষয়। বিধায় গোষ্ঠীগত মানুষের সুবিধার্থে তিনি দূর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সং¶িপ্ত করে প্রথম একক আয়োজনে তার এলাকায় কাত্যায়নি পূজা শুরু করেন। সেটিই ব্যাপকতর হতে হতে এখন মাগুরায় এটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়িয়ে সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েয়ে।

শাস্ত্রমতে দাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের আগে গোপবালা বৃন্দ তীরে শ্রীকৃষ্ণকে ঈশ্বর, বন্ধু, স্বামি, পুত্র হিসাবে আরাধনা করত। তাদের একমাসব্যাপি আরাধনা সে সময় কাত্যায়নি পূজা হিসেবে চিহ্নিত হত। যার সময়কাল ছিল কার্তিক ও অগ্রহায়ন মাস। প্রতিমা স্থাপনের ক্ষেত্রে দূর্গা পূজার আদলেই সবকিছু। তবে অতিরিক্ত হিসেবে দেবি দুর্গার কোলে শ্রীকৃষ্ণের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়। যার অর্থ দেবি দুর্গার আরাধনার মাধ্যমে কৃষ্ণের সান্নিধ্য পাওয়া। যেটি কাত্যায়নি পূজার ধর্মীয় যোগসূত্র।

মাগুরা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এড. প্রদ্যুত কুমার সিংহ জানান, কাত্যায়নি দেবির আরোধনার জন্য এই পূজা হলেও এটি এখন আর ধর্মীয় রিতিনিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। হিন্দু ধর্মানুসারিদের পূজা হলেও মাগুরায় এটি এখন সব শ্রেণী পেশা ও ধর্মের মানুষের উৎসব। যা কেবল মাগুরাতেই বিস্তুৃত কলবরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দিনে দিনে যেখানে নতুন মাত্রাও যোগ হচ্ছে।

মাগুরায় কাত্যায়নি পূজাকে ঘিরে মূল উৎসবটি হয় নতুন বাজার ছানার বটতলা। যেখানে আয়োজিত মেলায় অংশ নিচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে আসা নানান ধরণের ব্যবসায়ীরা। স্থান পাচ্ছে দেশিয় এবং লোকজ নানান সংগ্রহ। বসছে শতাধিক দেশি কাঠের ফার্নিচারের দোকান। শিশুদের খেলনা। থাকছে চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যবাহি বিনোদন ব্যবস্থা। পুতুল নাচ, নাগর দোলা সহ আরো অনেক রকম বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মণ্ডপেও আনা হয়েছে বৈচিত্র।

সানার বটতলা কাত্যায়নি উত্সব কমিটির সহ-সভাপতি সুনিল কুমার দে জানান, এবারো মণ্ডপে তৈরির ক্ষেত্রে নতুনত্ব রাখা হয়েছে। প্রাচীন ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের আদলে একটি বটগাছকে ঘিরে পুরো মণ্ডপটি তৈরি করা হয়েছে। জমকালো এই উৎসব এলাকার আইন-শৃক্সখলা রক্ষার্থে মাগুরা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নানা নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মাগুরার সহকারি পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতায় মেলার পরিবেশ অন্যান্য বছরের চেয়ে আরো সুন্দর হবে। উৎসবকে আরো আনন্দদাময় এবং দর্শনার্থিদের সুবিধার্থে বাইরে থেকে অতিরিক্ত ৩৬০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যারা নানাভাবে উৎসবে অংশ নেয়া মানুষকে নির্বিঘ্নে  চলাচলে সাহায্য করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com