প্রথম পাতা » Featured » মাগুরায় বিএনপিতে শুরু হয়েছে হট্টগোল

মাগুরায় বিএনপিতে শুরু হয়েছে হট্টগোল

মাগুরায় বিএনপিতে শুরু হয়েছে হট্টগোল

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : মাগুরায় জেলা বিএনপির প্রায় সকল ইউনিটের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরির বিরুদ্ধে একাট্টা বেধেছেন। জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি জিয়া অরফানেজ মামলার আসামি কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা নিতাই রায়কে ‘এক-এগারোর মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সহযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করে তৈরি দলীয় রেজুলেশন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। যা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দারুন হট্টগোল শুরু হয়েছে।

জেলা বিএনপি’র বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ওয়ান ইলেভেনের পর দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইকোনো গ্রুপের মালিক কাজী সালিমুল হক কামালকে দলের সভাপতির পদ থেকে বাদ দিয়ে জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মুরাদকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু সাংগঠনিক গতিবৃদ্ধির ¯^ার্থে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরিকে আহ্বায়ক করে নতুন করে কমিটি গঠন করা হলেও এই কমিটিও দলীয় নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জনে সমর্থ হয়নি। যে কারণে সর্বশেষ গত বছরের ৩০ নভেম্বর মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির নেতা সৈয়দ আলি করিমকে আহ্বায়ক  করে নতুন করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি জেলা বিএনপির সম্মেলনের জন্য মাগুরার চারটি উপজেলা, একটি পৌরসভা এবং দক্ষিণ মাগুরা এই ৬টি ইউনিট কমিটির গঠন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। নবগঠিত বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সালিমুল হক কামালকে নতুন করে সভাপতি নির্বাচনের জন্য ভিতরে ভিতরে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি সমর্থন আদায়ের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গত ২ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় মনোনয়ন প্রত্যাশিদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী কামালকে দলীয় চেয়ারপারসনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকারি হিসেবে উল্লেখ করে বক্তব্য রাখায় কাজী কামালপন্থীরা বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের পর তারা জেলার মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলা সদরে অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা দাহ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। জেলা বিএনপি’র ৬টি কমিটি ছাড়াও জেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মীই অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরির বিপক্ষে একাট্টা বেধে তার বিরুদ্ধে রেজুলেশন প্রস্তুত করেছে। আর এর সব কিছুই আসন্ন জেলা কমিটি ও নির্বাচনকে সামনে রেখে করা হচ্ছে বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতা আমিনুর রহমান খান পিকুল বলেন, মাগুরা শহরের জজকোর্ট পাড়ায় দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে গত ৪ নভেম্বর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিএনপির সকল ইউনিট এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতাকর্মীরাই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নিতাই রায় চৌধুরীর সংবাদ পত্রে দেওয়া বক্তব্য দলের সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে উল্লেখ করে দলীয় রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছেন তারা। যা ইতোমধ্যেই বিএনপি নেত্রি বেগম খালেদা জিয়া বরাবর পাঠানো হয়েছে।

মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আকতার হোসেন সাবেক মন্ত্রী বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরির বিরুদ্ধে দলীয় রেজুলেশন তৈরি ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলীয় চেয়ারপারসনের কাছে সেটি পাঠানোর খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে জেলা বিএনপি’র নামে এই ধরণের রেজুলেশন তৈরির বিষয়টিকে অগ্রহণযোগ্য ও বিধি বহির্ভূত বলে দাবি করেছেন নিতাই রায় পন্থী নেতাকর্মীরা।

এদিকে নিজেকে মাগুরা সদর থানা বিএনপি’র সভাপতি পরিচয় দিয়ে জেলা বিএনপি সদস্য মিহির কান্তি বিশ্বাস জরুরি সভা আহ্বানের বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, কোন বিশেষ ব্যক্তির স্বার্থে গোপনে রেজুলেশন প্রস্তুত করার ঘটনা অরাজকতা। কাজী কামাল গত বার বছর বিএনপির জন্য দশটা টাকাও খরচ করেননি। নেতা-কর্মীদের কোন খোজও নেননি। বরং ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় দলীয় প্রার্থীকে ফেল করানোর জন্য নিজের লোকজন দিয়ে নৌকার ইলেকশন করেছেন। সেই কাজী কামালের স্বার্থে নিতাই রায় চৌধুরীর মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে তাদের অপতত্পরতা অগ্রহণযোগ্য। যা দলের মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টির নামান্তর।

এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার পর জেলা বিএনপি’র দায়িত্ব স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছি। ডিস্ট্রিক্ট পলিটিক্স নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। বিধায় সেখানে কে সভাপতি হবেন কিনা সেটি দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। আর আমার বিরুদ্ধে কে কী বলছে বা করছে আমার কাছে তার কোন গুরুত্বও নেই।

উল্লেখ্য, বিগত ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মাগুরার মহম্মপুর ও শালিখা উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদিয় আসন মাগুরা-২ থেকে বিএনপি প্রার্থি হিসেবে নির্বাচন করেন সাবেক মন্ত্রী অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরি। এবার ওই আসন থেকে ইকোনো গ্রুপের মালিক কাজী সালিমুল হক কামাল প্রার্থি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কিন্তু জিয়া অরফানেজ মামলার আসামি হিসেবে তিনি বর্তমানে হাজত বাস করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com