প্রথম পাতা » Featured » ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নী উৎসব ও মেলা

ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নী উৎসব ও মেলা

ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নী উৎসব ও মেলা

প্রতিদিন ডেস্ক : জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার থেকে মাগুরায় শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহি কাত্যায়নি উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজাকে ঘিরে শুরু হলেও গত তিন দশকে এটি জেলার সার্বজনিন ও প্রাণের উৎসবে রূপ নিয়েছে। যে উৎসব উপলক্ষে ইতোমধ্যেই সারা শহর সেজেছে বর্ণিল রঙে। মণ্ডপ গুলো সাজানো হয়েছে প্রাচীন ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের আদলে।
প্রতিবছর সারদিয়া দুর্গা পূজার ঠিক ১ মাস পরে অধিক জাকজমকপূর্ণভাবে মাগুরায় এই উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। এ বছর পৌর এলাকার ১২টি সহ সারা জেলায় মোট ৭০টি মণ্ডপে কাত্যায়নি পূজা এবং এটিকে ঘিরে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে ষষ্ঠি পূজার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের শুরু হলেও দশমি পূজা ছাপিয়ে উৎসব এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত মেলা চলবে আরো দশ দিন। যেখানে থাকবে নাগর দোলা, পুতুল নাচসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা আয়োজন। দেশের দূর দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়িরাও এ মেলায় অংশ নিতে ইতোমধ্যেই পসরা সাজিয়ে বসেছে। আর এসবকে ঘিরে আগামি পনের দিন সারা জেলার মানুষ উৎসবের মধ্যে দিয়ে নিজেদের পার করবে।

Magura-Katyani-Utsab-Pic-01
ধর্মীয় শাস্ত্রমতে দাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের আগে গোপবালা বৃন্দ তীরে শ্রীকৃষ্ণকে ঈশ্বর, বন্ধু, স্বামি, পুত্র হিসাবে আরাধনা করত। তাদের একমাসব্যাপি আরাধনা সে সময় কাত্যায়নি পূজা হিসেবে চিহ্নিত হত। যার সময়কাল ছিল কার্তিক ও অগ্রহায়ন মাস। প্রতিমা স্থাপনের ক্ষেত্রে দূর্গা পূজার আদলেই সবকিছু। তবে অতিরিক্ত হিসেবে দেবি দুর্গার কোলে শ্রীকৃষ্ণের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়। যার অর্থ দেবি দুর্গার আরাধনার মাধ্যমে কৃষ্ণের সান্নিধ্য পাওয়া। যেটি কাত্যায়নি পূজার ধর্মীয় যোগসূত্র।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, ১৯৫০ সালের দিকে শহরে পারনান্দুয়ালি এলাকার জনৈক সতিশ মাঝি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম এ পূজা উৎসব শুরু করেন। পেশায় তিনি ছিলেন মুদি ব্যবসায়ি। তবে তার গোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী হওয়ায় বিশেষ করে ভরা বর্ষা মৌসুমে পেশাগত কারণে বিভিন্ন নদীতে মাছ শিকারে যেত। যে কারণে এ সময়ে অনুষ্ঠিত দূর্গা পূজায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য দুরূহ বিষয়। যে কারণে গোষ্ঠীগত মানুষের সুবিধার্থে তিনি দূর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সংক্ষিপ্ত করে প্রথম একক আয়োজনে তার এলাকায় কাত্যায়নি পূজা শুরু করেন। সেটিই ব্যাপকতর হতে হতে বর্তমান পর্যায়ে এসে পড়েছে। যা এখন গোটা জেলার মানুষের অন্যতম উৎসব।
মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক শতদল বিশ্বাস জানান, ৮০ দশকেও এই পূজা কেবলমাত্র মাগুরা শহরের ছানার বটতলা, নিজনান্দুয়ালি, নতুন বাজার, বাটিকাডাঙ্গা এবং জামরুল তলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু গত দুই যুগে এর ব্যাপ্তি যেমন বেড়েছে। সংখ্যাও বেড়েছে অনেক। যার আয়োজন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব হিসেবে পরিচিত দুর্গা পূজার আমেজকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এ বছর সারা জেলায় মোট ৭০টি মণ্ডপে কাত্যায়নি পূজার আয়োজন করা হলেও। এ উপলক্ষে আয়োজিত মেলা ও উৎসব কেবলমাত্র শহরের ৫টি মন্দির ঘিরে। যেগুলোকে সামনে রেখে সারা শহরে ও প্রবেশমূখে সুদৃশ্য তোরণ, বর্ণিল রঙে ও আলোকচ্ছটায় আলোকিত করা হয়েছে। আর এই বর্ণিল পরিবেশের উৎসবে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থিদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তি নেপাল ও ভারত থেকেও ছুটে আসবে উৎসাহিরা। যাদের নিরাপত্তার জন্যও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
জামরুল তলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পঙ্কজ কুণ্ড জানান, কাত্যায়নি পূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও গত তিন দশকে এটি মাগুরার সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। যেখানে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সানন্দে অংশ নিয়ে থাকে। যে কারণে এটি মাগুরাবাসীর কাছে প্রাণের উৎসবে রূপ নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com