প্রথম পাতা » Featured » আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের ডিন জহুরুল ইসলামের জাল সার্টিফিকেট

আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের ডিন জহুরুল ইসলামের জাল সার্টিফিকেট

আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের ডিন জহুরুল ইসলামের জাল সার্টিফিকেট

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : খোদ সরকারের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে পিএইচডি করিয়ে দেয়ার নিশ্চয়তায় জাল সার্টিফিকেট দিয়ে এবার ধরা খেলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের ডিন ড. জহুরুল ইসলাম। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল মিটিংয়ে ওই শিক্ষক ও ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে খোদ একাডেমিক কাউন্সিলের শিক্ষকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পিএইচডি ভর্তির শর্ত অনুযায়ী কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে দু বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সে শর্তানুযায়ী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের ডিন জহুরুল ইসলাম বিচার বিভাগের কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলামকে তার তত্বাবধানে পিএইচডি করিয়ে দেয়ার নিশ্চয়তায় দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে দু বছরের শিক্ষকতার জাল সনদ দিয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির চেষ্টা করে। কিন্তু ওই সার্টিফিকেটে স্মারক নম্বর, নামসহ ৪টি বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিলে গত ৩১ অক্টোবর ২০১৫ ইং তারিখে বোর্ড অব এ্যাডভান্স ষ্টাডিজ মিটিংয়ে এ বিষয়টি উত্থাপিত হয়। যার প্রেক্ষিতে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান জাকারিয়া রহমানকে আহবায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের সত্যতা খুজে পায় এবং ওই সার্টিফিকেট জাল বলে রিপোর্ট পেশ করে।

এদিকে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে গত গত মাসের ২৯ তারিখে একাডেমিক কাউন্সিল মিটিংয়ে জাল সার্টিফিকেটের বিষয়টি এজেন্ডা আকারে উপস্থাপিত হয়। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের ডিন জহুরুল ইসলাম নিজে ও তার ফেলো তৌহিদুল ইসলামকে বাঁচানোর জন্য দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন। যার সঙ্গে এই জালিয়াতি চক্রের সাথে মাহবুব বিন শাহজাহান শুভ নামে এ বিভাগের আরেক শিক্ষকের নাম বিভিন্ন অভিযোগ থেকে উঠে এসেছে। এই অবস্থায় একাডেমিক কাউন্সিলের শিক্ষকবৃন্দ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী তুললে চিহ্নিত এই জালিয়াতকারীদের রক্ষার অভিপ্রায় নিয়ে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. শাহিনুর রহমান জালিয়াত চক্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এ এজেন্ডাকে প্রত্যাহার করে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে একাডেমিক কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য শিক্ষক নেতা ড. কে এম সালেহ, প্রফেসর ড. হারুণ-অর রাশিদ আসকারীর নেতৃত্বে শিক্ষকবৃন্দ ওয়াকআউট করা সিদ্ধান্ত নিলে ভাইস চ্যান্সেলর ড. আব্দুল হাকিম সরকার এ বিষয়টি বিশেষভাবে দেখার সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষকবৃন্দ নিবৃত হন।

উল্লেখ্য পিএইচডি ভর্তিচ্ছুক তৌহিদুল ইসলাম ইতোপূর্বে আইন বিভাগের শিক্ষক নকিব নসুরুল্লাহ’র তত্বাবধানে এম ফিল ভর্তি হলেও অবশেষে ডিগ্রি নিতে পারেননি। শেষমেষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের ডিন জহুরুল ইসলাম এ জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে এ ছাত্রকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে ধরা খেলেন। পিএইচডি ভর্তিচ্ছুক তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী হামিদা খাতুন তমা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল ফিকহ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনিও জহুরুল ইসলামের ফেলো বলে জানা যায়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম সরকার জানান, সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়ে একটি স্পেশাল মিটিং এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জহুরুল ইসলামের হেকেপ প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও বিভাগ থেকে ছুটি না নিয়ে আমেরিকা ভ্রমনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তদন্তপূর্বক পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে জানান। সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়ে জহুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মুঠোফোন কেটে দেন। পিএইচডি ভর্তিচ্ছুক তৌহিদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি কোন শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সনদ দেয়নি; এ বিষয়ে ড. জহুরুল ইসলাম ভাল বলতে পারবেন। উল্লেখ্য পিএইচডি ভর্তিচ্ছুক তৌহিদুল ইসলাম এ জাল সনদ প্রত্যাহারে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, জহুরুল ইসলাম নিজের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড বানচালের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com