প্রথম পাতা » Featured » তথ্যগত ভুলের মাশুল দিচ্ছে শালিখার ৪০ হাজার হতদরিদ্র

তথ্যগত ভুলের মাশুল দিচ্ছে শালিখার ৪০ হাজার হতদরিদ্র

তথ্যগত ভুলের মাশুল দিচ্ছে শালিখার ৪০ হাজার হতদরিদ্র

শালিখা সংবাদদাতা : তথ্যগত ত্রুটির কারণে মাগুরার শালিখা উপজেলার অন্তত ৪০ হাজার হতদরিদ্র মানুষ সরকারি ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসনের তথ্য পর্যালোচনায় এই বঞ্চনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মাগুরার অবহেলিত এই উপজেলায় প্রকৃত হতদরিদদ্রের হার ২৪.৭ শতাংশ হলেও খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে সেটি ৪.৭ শতাংশ হওয়ায় হতদরিদ্রদের জন্য কমমূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম থেকে এ উপজেলার যোগ্যতম অন্তত ৪০ হাজার মানুষ সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শালিখা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যানের ইনকাম এ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে ২০১০ এর রিপোর্ট ও আদমশুমারী ও গৃহ গননা ২০১১ এর তথ্যঅনুযায়ী ১,৬৯,৮৯৫ জন। সেই হিসাবে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিজীবি, মত্সজীবি, হরিজন, দলিত ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকেরই বসবাস। জরিপ তথ্যে শালিখা উপজেলায় দারিদ্রের হার ৪৪.২ শতাংশ এবং চরম দারিদ্রের হার ২৪.৭ শতাংশ দেখানো হয়েছে। চরম দারিদ্রের হার ২৪.৭ শতাংশ অনুযায়ী জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে ৪১,৯৬৪ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী হওয়ার কথা। অথচ তথ্যগত ভুলের কারণে খাদ্য অধিদপ্তরে হতদরিদ্রের তালিকায় ৪.৭ শতাংশ দেখানো হয়েছে। এতে করে এ উপজেলার ৭ ইউনিয়নে মাত্র ১৯৯৭ জন হতদরিদ্র মানুষ সরকারের এই সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এই ক্ষেত্রে উপজেলার ৩৯,৯৬৭ জন হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাগুরার সদর উপজেলায় ৭০৯৫ জন, মহাম্মদপুর ৬৫৬৭ জন, শ্রীপুর ৯১২২ জন হতদরিদ্র মানুষ ১০ টাকা মূল্যে সরকারি চাল ক্রয় করার সুযোগ পেলেও শালিখা উপজেলায় সুযোগ পেয়েছে মাত্র ১৯৯৭ জন।

অন্যদিকে শালিখা উপজেলায় ন্যায্যমুল্যে ১০,০৫৯ টি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণের প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ প্রদান করা হলেও গত ২৭/৭/১৬ তারিখের খাদ্য অধিদপ্তরের ৬১৬(৭) স্মারকে শালিখা উপজেলায় ন্যায্যমুল্যে ১৯৯৭ জনের জন্য খাদ্যশস্য বিতরণের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এমনকিভাবে প্রশাসনিক তথ্য উপাত্তের অনাকাক্সিখত ভুল ও অসংগতির কারণে উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার হতদরিদ্র মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমিন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। অচিরেই এ ভূলের সমাধানের আশা করা যাচ্ছে।

অসংগতিপূর্ণ তথ্য উপাত্ত সংশোধনের মাধ্যমে স্থানীয় হতদরিদ্র মানুষেরা অচিরেই তাদের অধিকার ফিরে পাবে এই প্রত্যাশা সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com