প্রথম পাতা » নারী/তারুণ্য » বেগম রোকেয়া দিবস এবং মাগুরার জয়িতা

বেগম রোকেয়া দিবস এবং মাগুরার জয়িতা

বেগম রোকেয়া দিবস এবং মাগুরার জয়িতা

প্রতিদিন ডেস্ক : বাঙালি নারী জাগরণের পথিকৃত, ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত সাহিত্যিক, সাংগঠনিক ও লেখক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে“ জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় বুধবার সকালে মাগুরায় বের করা হয় বনার্ঢ্য শোভাযাত্রা। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দিবসের শোভাযাত্রা বের হয়ে ভায়না মোড় ঘুরে পুনরায় সেখানে গিয়ে শেষ হয়।

সাড়ে দশটায় জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসের মূল আলোচনাসভা ও জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জহূরার সভাপতিত্তে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহ:মাহবুবর রহমান। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) খোন্দকার আজিম আহমেদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো: রস্তম আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পংকজ কুমার কুন্ডু প্রমুখ।

এ বছর মোট পাচটি ক্যাটাগরিতে জয়িতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। জেলা ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন যথাক্রমে, অর্থনৈতিকভাবে সফলতার জন্য মনোয়ারা লাজমী, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে মাজেদা খাতুন, সফল জননী নারীতে আছিয়া বেগম, সমাজ উন্নয়নে লায়লা কানিজ বানু, নির্যাতিত পর্যায়ে কমলা রানী।

উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষায় এ্যাডভোকেট শাহিনা আক্তার ডেইলী, অথৃনীতিতে মনোয়ারা লাজমী, নির্যাতনে মনিরা বেগম, সফল জননীতে মিসেস দৌলতুনেচ্ছা।

উল্লেখ্য ১৮৮০ সালের এ দিনে মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া জন্ম নেন। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ১৯৩২ সালের এই দিনে তিনি প্রয়াত হন। তৎকালীন মুসলিম সমাজব্যবস্থায় নারীরা ছিলেন গৃহবন্দি। ফলে স্কুলে গিয়ে বেগম রোকেয়ার পড়ালেখা শেখা হয়নি। ঘরে বসেই তখন নারীরা আরবি ও উর্দু চর্চা করতেন। রোকেয়ার বড়ভাইয়ের সহযোগিতায় বাংলা ও ইংরেজি শেখেন।

বেগম রোকেয়া সাহিত্য ভুবনে পা রাখেন বিয়ের পর। তার স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন পেশায় ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। তিনিই বেগম রোকেয়াকে সাহিত্য চর্চায় প্রেরণা দেন। ১৯০২ সালে রোকেয়া ‘পিপাসা’ গল্পের মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি নারীশিক্ষাকে এগিয়ে নিতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন।

১৯০৯ সালে তিনি ভাগলপুরে প্রথম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণবশত স্কুলটি বেশিদিন টেকেনি। পরবর্তীতে একবছর পর ১৯১১ সালে কলকাতায় পুনরায় একই নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন।

রোকেয়া সাখাওয়াতের জীবনের শুরুটা পর্দার আড়ালে কাটলেও তিনি ছিলেন নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এই বিশ্বাসকে এগিয়ে নিতে তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেন ও নারীদের এসব কাজে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান। এর ফলশ্রুতিতে ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠা পায় মুসলিম নারী বিষয়ক সংগঠন আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম। বেগম রোকেয়ার বিশেষ কিছু গ্রন্থ সর্বাধিক পরিচিত। পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, মতিচুর ইত্যাদি। তার উল্লেখযোগ্য রচনা, সুলতানার স্বপ্ন। মৃত্যুর আগে বেগম রোকেয়া একটি অসমাপ্ত প্রবন্ধ রেখে যান। এর নাম ‘নারীর অধিকার’।

বেগম রোকেয়া তার লেখনিতে নারীবৈষম্য প্রতিরোধে সোচ্চার হয়েছেন। সামাজিক সচেতনতা ও নারী-পুরুষ সমানাধিকার বিষয়ে হয়েছেন স্পষ্টবাদী। বর্তমান আধুনিক নারী সমাজ সৃষ্টিতে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদান অসামান্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com