প্রথম পাতা » Featured » মাগুরায় ভাটায় পুড়ছে প্লাস্টিক বর্জ, প্রশাসন নির্বিকার

মাগুরায় ভাটায় পুড়ছে প্লাস্টিক বর্জ, প্রশাসন নির্বিকার

মাগুরায় ভাটায় পুড়ছে প্লাস্টিক বর্জ, প্রশাসন নির্বিকার

মাগুরা প্রতিদিন ডেস্ক: মাগুরায় জেলা প্রশাসনের নিবন্ধিত ভাটা গুলোতে কয়লার সাথে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ পোড়ানো হচ্ছে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হলেও এটি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কোন প্রকার তৎপরতা নেই। উপরোন্তু এ বিষয়ে তাদের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

মাগুরায় বর্তমানে পরিবেশ বান্ধব জিগজাগ ভাটার সংখ্যা মোট ২৩টি। অতিতে এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার করা হলেও সরকারি নির্দেশনায় গত বছর থেকে কয়লার ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু এ বছর স্থানীয় ভাটা মালিকেরা জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনতে কয়লার সঙ্গে বিপুল পরিমানে বর্জ প্লাস্টিক ব্যবহার করছে। এতে করে সরকারের পরিবেশ বান্ধব ইটের ভাটা স্থাপনের পরিকল্পনা একেবারেই ব্যহত হতে যাচ্ছে।

সরজমিনে মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের পাশে মাগুরা পৌর এলাকার আবালপুরে মেসার্স রিয়া ব্রিকস ফিল্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান চুল্লির সামনেই বিপুল পরিমাণে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিকের নানা ধরণের বর্জ স্তুপ করা হয়েছে। এরই পাশে রয়েছে স্তুপিকৃত কয়লা। যার মান এবং বিশেষ করে কয়লায় সালফারের মাত্রাতিরিক্ত হার ও মারকারির উপস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তার উপর নিম্নমান সম্পন্ন এসব কয়লার সাথে শক্ত প্লাস্টিক বর্জের মিশ্রন যোগে শ্রমিকেরা সেখানকার মাড়াইকলে চুর্ণ করে চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে অবাধে।

আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা ভাটায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ পোড়াবার বিষয়ে ভাটা মালিক বাহারুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ইট পোড়াবার মৌসুমের শুরুতে টন প্রতি কয়লা সাড়ে ৬ হাজার টাকা হলেও এখন ১০ হাজার টাকা বা তারও বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এতে করে ইটের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যে কারণে ঢাকা থেকে কম মূল্যে এসব প্লাস্টিক বর্জ সংগ্রহ করে চুল্লিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কিনা সে বিষয়ে তার কোন ধারণা নেই।

তিনি বলেন, ভাটা চালু করার পর থেকেই প্রশাসনের লোকজন নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নানা খাতের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। কিন্তু এসব বর্জ পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কেউ কোন আপত্তি জানায়নি।

খোলা জায়গায় প্লাস্টিক বর্জ পোড়ানোর বিষয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশিষ বিশ্বাস বলেন, সব রকমের ধোয়াই ক্ষতিকর। তবে প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্যের আগুন থেকে নির্গত ধোয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অধিক। বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরের ক্ষতির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তি এলাকার প্রাণীজগতের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে নানারকম ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ভাটা এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে।

এ বিষয়ে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।

অবাধে ভাটায় প্লাস্টিক বর্জ পোড়ানোর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তাকে অবগত করানো হলে তিনি বলেন, ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনে কাঠ পোড়াবার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেখানে প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য পোড়ানো যাবে না এমন কোন নির্দেশনা দেয়া নেই।

মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইট ভাটায় প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ পোড়াবার বিষয়টিকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন এটিকে ভয়ঙ্করতম অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ পোড়ানোর কারণে সেখানে সৃষ্ট ধোয়া পরিবেশের জন্যে মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ, সকল প্রকার প্রাণী এবং জীবজগতের জন্য এটি মারাত্মক হুমকি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ইটের ভাটায় জ্বালানি কাঠের ব্যবহার বন্ধ করে কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেখানে কয়লার সাথে প্লাস্টিকের বর্জ পোড়ানো আরো ক্ষতিকর। ইটের ভাটা বা অন্য কোন ক্ষেত্রেই প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ ব্যাপক পরিমাণে পোড়ানো বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বা বিনাশের অনুমোদন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেই দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo_image
সম্পাদক: জাহিদ রহমান
নির্বাহী সম্পাদক: আবু বাসার আখন্দ
প্রকাশক:: জাহিদুল আলম
যোগাযোগ:
পৌর সুপার মার্কেট ( দ্বিতীয় তলা), এমআর রোড, মাগুরা।
ফোন: ০১৯২১১৬১৬৮৭, ০১৭১৬২৩২৯৬২
ইমেইল: maguraprotidin@gmail.com