আজ, বুধবার | ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | বিকাল ৩:০৫

ব্রেকিং নিউজ :
গণধর্ষণ-নারী নির্যাতন প্রতিবাদে মাগুরায় গণ কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ মাগুরায় বেসরকারি গণগ্রন্থাগার পরিষদের নতুন কমিটি গঠন নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় মাগুরা আদালতে প্রতীকী নামে রায় প্রদান মাগুরায় দেয়াল চাপায় নিহত শ্রমিক পরিবারের জন্যে এমপি ও মেয়রের আর্থিক সহায়তা মাগুরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা ও বৃক্ষরোপন মাগুরায় কোভিড-১৯ নমূনা পরীক্ষা ল্যাবের উদ্বোধন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মাগুরার ছোটন-চায়না দম্পতি খুন মাগুরায় দেওয়াল চাপায় ২ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে মাগুরায় যুবলীগের ৪ দিনের কর্মসূচি নারীরাও পুরষের মতোই স্বাধীনতা, বিপ্লব, সশস্ত্র যুদ্ধের যোগ্যতা ও সক্ষমতা অর্জন করতে পারে-জাসদ নেতা জাহিদুল আলম
জাতীয় নির্বাচনে মাগুরা: ফিরে দেখা— জাহিদ রহমান

জাতীয় নির্বাচনে মাগুরা: ফিরে দেখা— জাহিদ রহমান

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচন ১৯৭৩
৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের অধীনে এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ও সদ্য গঠিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদসহ ১৪টি রাজনৈতিক দলের মোট ১০৯১ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে যশোর ১০ (মাগুরা শালিখা) আর্থাৎ মাগুরা সদর আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভার অন্যতম সদস্য জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এড. মো. সোহরাব হোসেন। যশোর-১১ (শ্রীপুর-মোহাম্মদপুর) আসনে ৭৮৮৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদপুরের সন্তান আব্দুর রশিদ বিশ্বাস। তার বিপক্ষে ন্যাপ (ভাসানী) থেকে মনোনীত প্রার্থী শ্রীপুরের কাজী ফয়জুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৯২৫১ ভোট।
দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯
৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি সারাদেশে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মেজর জেনারেল (অব.) মজিদ উল হক মাগুরা সদর আসন অর্থাৎ যশোর-১২ আসনে (মাগুরা-শালিখা) প্রার্থী হন। এই আসনে মূলধরার আওয়ামী লীগ (মালেক) থেকে প্রার্থী হন বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আবুল খায়ের, আওয়ামী লীগ (মিজান) থেকে প্রার্থী হন সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট মো. সোহরাব হোসেন। রাজনীতিতে নবাগত মেজর জেনারেল (অব.) মজিদ উল হক সদর আসনে ৫১৯৬৪ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী এডভোকেট আবুল খায়ের পান ১৭৫১৭ ভোট। দলীয় মই প্রতীক নিয়ে এডভোকেট সোহরাব হোসেন পান মাত্র ৫০৪৩ ভোট। এই নির্বাচনে জাসদ থেকে অংশগ্রহণ করেন ডা. আফতাব উদ্দিন।
অন্যদিকে যশোর-১১ আসনে (মোহাম্মদপুর-শ্রীপুর) শত প্রতিকূলতার মাঝেও চমক দেখান আওয়ামী লীগ প্রার্থী এডভোকেট আসাদুজ্জামান। ন্যাপ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমানকে হারিয়ে নিজের জনপ্রিয়তাকে তিনি ভালোভাবেই প্রমাণ করতে সক্ষম হন। নির্বাচনে এডভোকেট আসাদুজ্জামান ৩১৩৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী কাজী ফয়জুর রহমান পান ২৮৩২৭ ভোট। মুসলিম লীগের প্রার্থী সাবেক ডেপুটি স্পিকার মছিহুল আজম খান হারিকেন প্রতীক নিয়ে পান ১৪০৭২ ভোট। এই আসনে আওয়ামী লীগ (মিজান) থেকে মই মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন শ্রীপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা নবুয়ত আলী।
তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন-১৯৮৬
৮৬ সালের ৭ মে এরশাদের অধীনে প্রথম এবং দেশের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে ৪৫৩৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেজর নেজারেল (অব.) এম এ মতিন। ২৩৭৬২ ভোট পেয়ে পরাজিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলতাফ হোসেন। মুসলিম লীগ প্রার্থী ইকবাল অঅখার খান কাফুর ১৪৪৫৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। জাসদ (রব) এর প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ আওয়াল ১৪০৬৩, জামায়াতে ইসলামীর আ. মতিন ৮৯৮০ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফনীভূষণ মাত্র ৩৬০ ভোট পান। ৮৬ সালে মাগুরা ২ আসনের নির্বাচনে যথারীতি চমক দেখান জনপ্রিয় নেতা জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আসাদুজ্জামান। ৪৫৭১৩ ভোট পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান তরফদার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান তরফদার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫৫১৩ ভোট পান। ইউপিপি থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়া নিতাই রায় চৌধুরী ২৮৩৭৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।
চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৮৮
৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটারবিহীন এ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) এমএ মতিন এবং মাগুরা-২ আসন থেকে এড. নিতাই রায় চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়।

পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯১
১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মাগুরা ১ আসনে বিএনপি থেকে মে. জে (অব.) মজিদ উল হক ৬৯৭২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী মো. আলতাফ হোসেন ৫৭৭৯৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। এই নির্বাচনে বাকশাল থেকে রায় রমেশ চন্দ্র কাঁচি প্রতীকে পান ২৪২৩। মাগুরা ২ আসনেও প্রার্থী হন মে. জে (অব.) মজিদ উল হক। কিন্তু পরাজিত হন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আছাদুজ্জামানের কাছে। ৬১ হাজার ০৬৭ ভোট পান মো. আছাদুজ্জামান, অন্যদিকে ৩২ হাজার ২৬৬ ভোট পান মে. জে (অব.) মজিদ উল হক।

ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬
৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই কথিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এই নির্বাচন আওয়ামী লীগসহ দেশের প্রায় সব ছোট বড় রাজনৈতিক দল একযোগে বর্জন ও প্রত্যাখান করে। শুধু ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং ফ্রীডম পার্টিসহ অন্যান্য কয়েকটি ক্ষুদ্র ও কথিত দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহন করে। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরলে খালেদা জিয়া ৯৬ সাল ১৯ মার্চ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। একেবারেই অগ্রহনযোগ্য এই নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মজিদ উল হক এবং মাগুরা-২ আসন থেকে শিল্পপতি কাজী সলিমুল হক কামালকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬
৯৬ সালের ১২জুন সারাদেশ সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিথ হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া ডা. মো. সিরাজুল আকবর সবাইকে বিস্মিত করে ৭৩৫৪৩ ভোট পেয়ে প্রায় দেড় যুগ ধরে আওয়ামী লীগের হাতছাড়া থাকা মাগুরা-১ আসনটি পুনরুদ্ধার করে তিনি নিজ দলকে উপহার দেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক পৗর চেয়ারম্যান ইকবাল আখতার খান কাফুর ৩২২৬৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মজিদ উল হক বিস্ময়করভাবে মাত্র ৩১৬২১ ভোট পান। মাগুরা-২ আসন থেকে ৬৪২১৮ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরেন শিকদার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি কাজী সলিমুল হক কামাল পান ৫৫২০৪ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ২৬৮৭৮ ভোট।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০১
২০০১ সালের অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. এম সিরাজুল আকবর ৯৭৫৪২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হযে শীর্ষ আলোচনা পরিণত হন। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্ধী চারদলীয় জোট প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী ধানের শীষের বদৌলতে ৮৬৪৬৮ ভোট পান। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এড. হাসান সিরাজ সুজা প্রথমবারের মতো এরশাদের গড়া ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে ২২৫৬৯ ভোট পেয়ে খুলনা বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার কৃতিত্ব দেখান। বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি মেজর জেনারেল (অব.) মজিদ উল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পান প্রতীক নিয়ে মাত্র ৩১৭৭ ভোট পান। এদিকে মাগুরা ২ আসনে চারদলীয় জোট প্রার্থী কাজী সলিমুল হক কামাল ১০৬৭৪১ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শফিকুজ্জামান বাচ্চু পান ৯৬৩১৪ ভোট।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০৮
এই নির্বাচনে মাগুরা সদর আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে অধ্যাপক ডা. এমএস আকবর ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্ধী বিএনপি ইকবাল আখতার খান কাফুর ১ লক্ষ ০৯ হাজার ৮৩৫ ভোট। মাগুরা ২ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শ্রী বীরেণ শিকদার ১ লক্ষ ১৫ হাজার ২৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্ধ¦ী বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী ১ লক্ষ ০৯ হাজার ৮০৮ ভোট পান।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার এবং তাদের মিত্রদের অংশগ্রহণে দশম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. এমএস আকবর ৫৬ হাজার ৪১০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেন কুটি মিয়া পান ৪৭ হাজার ৮০০ ভোট। মাগুরা ২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে শ্রী বীরেণ শিকদার হাজার ৭১১ ভোট এবং তাঁর প্রতিদ্বন্ধী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান পান ৩০ হাজার ৭৭৫ ভোট।

 

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2020
IT & Technical Support : BS Technology