আজ, শনিবার | ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | রাত ৯:১৮

ব্রেকিং নিউজ :
পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকালে মাগুরার ২ যুবককে আটক দূর্ঘটনায় নিহত হাকিমের পরিবারকে আকিজ গ্রুপের দেড়লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পঙ্খি তোতাসহ মাগুরার সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৮ সদস্য আটক বাতাসে ছড়াচ্ছে করোনা, দাবি গবেষকদের শ্বাসতন্ত্রের সুরক্ষায় গ্রীণলাইফ ন্যাচারালের চ্যবন প্রাশ জিএল-চ্যবন জার্মান প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান বাবু এখনও গেজেটেড হতে পারেননি!  মাগুরায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পীদের অর্ধকোটি টাকা নয় ছয় মাগুরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত মাগুরা জেলা আ’লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রোস্তম আলির ইন্তেকাল মাগুরার শ্রীপুরে বিয়ের রাতে নববধূর মৃত্যু-হত্যা না আত্মহত্যা?
রাজার পালঙ্ক মাগুরা ডিসির কলঙ্ক!!

রাজার পালঙ্ক মাগুরা ডিসির কলঙ্ক!!

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : মাগুরা জেলা প্রশাসনের রেকর্ডরুম থেকে হারিয়ে গেছে ভূষণার রাজা সীতারাম রায়ের ব্যবহৃত মহামূল্যবান পালঙ্কটি। প্রায় তিনশত বছরের পুরণো প্রত্নতাত্ত্বিক এই নিদর্শনটি গোপনে মাগুরা জেলা প্রশাসক আলি আকবরের বাংলোতে নিয়ে যাওয়া হলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের রেকর্ড রুম কিংবা ট্রেজারির কোথায়ও নেই কোন তথ্য।

১৬৮৬ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজসভা থেকে রাজা উপাধি লাভ করেন সীতারাম রায়। দৌর্দণ্ড প্রতাপশালি এই রাজার রাজত্বের সীমারেখা ছিল উত্তরে পাবনা এবং দক্ষিণে সুন্দরবন পর্যন্ত। আর মাগুরার মহম্মদপুরে গড়ে তোলেন রাজধানী। কীর্তি হিসেবে যেখানে এখনও রয়েছে রাজপ্রাসাদ, কাঁচারি বাড়ি, দোলমঞ্চসহ আরো অনেক নিদর্শন। রাজত্বকালে গড়ে তোলেন অস্ত্র তৈরির কামারশালা। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর রাজা সীতারাম রায়ের রাজপ্রাসাদ এবং দোলমঞ্চটিতে সংস্কার কাজ চালালেও কালের বিবর্তনে রাজপ্রসাদ থেকে হারিয়ে গেছে ব্যবহৃত মূল্যবান অনেক কিছুই।

তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, রাজা সীতারামের অস্ত্র ভাণ্ডারের স্মৃতি হিসেবে কিছু তরোবারি মহম্মদপুর থানায় পুলিশের মালখানায় রয়ে গেছে। আর যে পালঙ্কটিতে রাজা বিশ্রাম নিতেন সেটি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল মাগুরা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ এবং সংস্কার কাজের সুবিধার জন্যে প্রত্নতাত্ত্বিক এই নির্দশনটি ট্রেজারি থেকে কখনো রেকর্ডরুমের স্তুপে কখনো জিমখানার অন্যান্য অব্যবহৃত উপকরণের পাশে জায়গা পেয়েছে। সর্বশেষ অবস্থান ছিল ট্রেজারি রুমের পাশে রেকর্ড রুমে দলিল-দস্তাবেজের মধ্যে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পালঙ্কটি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ডিসি’র বাসভবনে। শুধু তাই নয় নতুন রঙ পালিশে চকচক করে স্থান দেয়া হয়েছে শয়নকক্ষে। যেখানে রাজবংশের পালঙ্কে ঘুমিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক আলি আকবর রাজকীয় সুখানুভূতি গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

মাগুরা জেলা প্রশাসনের নেজারত, ট্রেজারি এবং রেকর্ড রুমের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ২ ফেব্রুয়ারি পালঙ্কটি মাগুরার এনডিসি রাজিব চৌধুরির সহায়তায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রাজিব চৌধুরী। তিনি বলেন, সীতারামের একটি মূল্যবান পালঙ্কের কথা শুনেছি। কিন্তু এখন কোথায় কীভাবে আছে সেটি খুঁজে দেখতে হবে।

তবে পালঙ্কটি দীর্ঘদিন রেকর্ডরুমে সংরক্ষিত ছিল বলে জানিয়েছেন এই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইসাহাক আলি। আবার বর্তমান কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, রেকর্ড রুমে থাকলেও এখন নেই। কিন্তু কেন নেই সেটিও জানা নেই।

বিষয়টি নিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক আলি আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পালঙ্কে ঘুমানোর কথা অস্বীকার করলেও মিস্ত্রি ডেকে মেরামত ও রঙ করার কথা অকোপটে স্বীকার করেছেন।

তবে এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানান, ঐতিহাসিক কোন নির্দশন ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। আর স্থানীয়ভাবে এটি মেরামতের চেষ্টা করলে এর এন্টিকভ্যালু থাকবে না। গত বছর দেশের সকল জেলা প্রশাসককেই এসব নিদর্শনগুলো যাদুঘরে জমা করার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কেন তারা সেটি করেন নি তা আমাদের বোধগম্য নয়।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2020
IT & Technical Support : BS Technology