আজ, শনিবার | ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | বিকাল ৩:৪৭

ব্রেকিং নিউজ :
নাজির আহমেদ কলেজের শিক্ষক মাসুদুর রহমানের স্মৃতিচারণে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন অনুনমোদিত আয়ূর্বেদিক ঔষধসহ ৩ জনকে আটকের পর কারখানা সিলগালা করেছে র‌্যাব-এনএসআই মাগুরায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক সন্তোষ দত্ত স্মরণে বস্ত্র বিতরণ মানিলন্ডারিং প্রতারক চক্রের হোতা ছানোয়ার গ্রেপ্তার শালিখায় দুস্থ শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ও আইটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন মাগুরায় শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে শিশু একাডেমির আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী মাগুরায় শেখ রাসেলের জন্মদিনে যুবলীগের পক্ষ থেকে শিশুদের জন্যে জরুরী ঔষধ ও খাবার বিতরণ মাগুরায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোস্টাল ইডি কর্মচারিদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেখ রাসেলের শুভ জন্মদিন
এসো মিলি প্রানের টানে, আমাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে-ইসমাত ইয়াসমিন

এসো মিলি প্রানের টানে, আমাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে-ইসমাত ইয়াসমিন

ইসমাত ইয়াসমিন : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯। কুয়াশায় ঢাকা প্রকৃতির নৈসর্গিক ছোঁয়ার মাঝে “এসো মিলি প্রানের টানে, আমাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে”-শ্লোগানকে ধারন করে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১৬ বত্সর উদযাপন উপলক্ষে ১ম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়েরা মাগুরামুখো হতে শুরু করেছে। ফেসবুকে দেখতে পাচ্ছি রিইউনিয়ন কে ঘিরে তাদের বিভিন্ন আনন্দ উদযাপনের দৃশ্য। এই দূর পরবাসে বসে এই সব ছবি দেখে আমি ও নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছি ।বিদেশ থাকার জ্বালা আর একবার টের পাচ্ছি।

আমরা যে ইচ্ছা করলেই সবকিছু করতে পারি না। সবার সঙ্গে দেখা করতে পারি না তা আর একবার হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করছি।

বাংলাদেশের ছোট এক জেলা মাগুরা। আমাদের প্রাণের মাগুরা। আমাদের শৈশব ও কৈশোরের মাগুরা। যে শহরটার সঙ্গে মিশে আছে আমাদের অনেক সুখ–দুঃখের স্মৃতি। দুই চোখ বন্ধ করলেই যেন আমি মাগুরা শহরটাকে দেখতে পাই। মাগুরা এত ছোট শহর যে, আজ থেকে ২৫ বছর আগে আমরা ১০ টাকায় পুরো মাগুরা শহর ঘুরে আসতে পারতাম।

এই শহরের বিভিন্ন প্রাইমারী স্কুল থেকে পাশ করে ক্লাস সিক্সে ছেলেরা বয়েজ স্কুলে আর মেয়েরা গার্লস স্কুলে ভর্তি হতে হত। । তাই আমাদের এই বালিকা বিদ্যালয়কে ঘিরে আছে অনেক বেশী স্মৃতি, স্কুলের কোনায় কোনায়, ইঞ্চিতে, ইঞ্চিতে কত কথা,আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।

স্মৃতির ভান্ডারের এমন হাজারো স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতে বেড়াতে অন্যমনস্ক হয়ে পরি। এ ছিল এক অন্য  জগত, যেখানে আরেকটি বার  ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল আকুতি সবার।

১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে বড় বোনের হাত হাত ধরে এই স্কুলে এসেছিলাম ষষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষা দিতে। সিট পড়েছিল এইটের ক্লাসে। রুমের দায়িত্ব পড়েছিল সুফিয়ুন্নেসা আপার উপর। যেদিন ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দেয় দেখা গেল আমি ভর্তি পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছি । নীল কামিজ, সাদা সালোয়ার , সাদা ওড়না, সাদা স্কার্ফ পরে এর পর সেই আঙিনায় প্রথম পা রেখেছিলাম বোনের হাত ধরেই।তারপর ৫ বছর এই স্কুল প্রাঙ্গনেই কেটেছে।

তখন আমাদের কাছে বালিকা বিদ্যালয় মানেই মনোয়ারা আপা, রায়হানা আপা, হোসনে জাহান আপা, হোসনে আরা আপা, শাহিদা খাতুন বুড়ি আপা, অনিতা আপা, লিপিকা আপা, জ্যোত্স্না আপা, শাহিদা আপা, রিজিয়া আপা, রবীন্দ্রনাথ স্যার, ইউসুফ স্যার, রব্বানী স্যার, শেখর স্যার, সুনীল স্যার, অতুল স্যার, মশিউর রহমান স্যার।

আর ছিল, রঘু দা, আলেয়া বু,শান্তির মা, আমেনা বু, দপ্তরীর নাম মনে নেই।স্কুল টিফিন, সিংঙাড়া,চমচম, বাদাম, আমড়া, গোপালদা’র আইসক্রীম, স্কুলের পুকুর, বরই গাছ, বড় আপার বাসার পেয়ারা গাছ। এসেম্বলী, কোরান তেলাওয়াত, গীতা পাঠ, জাতীয় সঙ্গীত, গার্ল গাইডস, স্পোর্টস…… কত শত স্মৃতি।অনিতা আপা আমাদের গান শেখাতেন “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে” ।

পেলাম এক ঝাক নতুন বন্ধু। শুক্তি, নীপু, বেলী, সোহেলী, মিতা, নীতা, নীলা, রিক্তা, কমা, দীপালী, কনা, সঞ্চিতা, তিথী, মহিরা, আঞ্জু, দিনা, লতা, রেহেনা, মার্চ, কাকন, সীমা, অপরাজিতা, ইতি-আরো অনেকে। স্কুল মানেই কত বন্ধু, কত আড্ডা, কত গল্প, কত রাগ, কত অভিমান, কত পাগলামি, কত হয়রানী। ক্লাসে বসে টেবিলে ঢোল বাজিয়ে তালি দিয়ে কত গান আর হাই বেঞ্চে বসে কত আড্ডা।

সব আপা,স্যারেরা আমাদের কে প্রাণের মায়ায় বেঁধে ফেলেছিলেন। তাই তো ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বড় আপার বাসা থেকে পেয়ারা চুরি করে আমরা শাহিদা আপার ব্যাগে রাখতাম। পরে স্কুল ছুটির সময় সেই পেয়ারা নিয়ে বাসায় ফিরতাম।আপা দেখে একটু হাসি দিয়ে রাগ করতেন, বলতেন পাগলী কোথাকার। কিন্তু পেয়ারা গুলো খুব যত্ন করে রেখে দিতেন। ছোট থাকতে কত ভাবতাম ইস কবে বড় হব। আর এখন মাঝে মাঝেই ফিরে তাকাই , ফিরে তাকাতে হয়, ভাবতে বসি সেই সব দিনের কথা।কখনো ও বা ভাবতে ভাবতে চোখ ছলছল হয়ে ওঠে, কখনো বা অকম্মাত ফেটে পরি হাসিতে। তবুও সেসব মুহুর্তকে বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই। ভোলা তো যায়না আর। আমি জানি সবাই বন্ধুদের দেখবে আর গাইবে, “আয় আরেক টি বার আয়রে সখা,প্রানের মাঝে আয়, মোরা সুখে দুখে কথা কব বকুলের তলায়।”

আর আমি এদিকে গাইব, “ও বন্ধু মিস করছি তোকে” । দেখিস একদিন ঠিক দেখা হবে, সেদিন তোদেরকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখব আর গাইব রবি বাবুর সেই গানটি-“হায় মাঝে হলো ছাড়াছাড়ি গেলেম কে কোথায়, আবার দেখা যদি হলো সখা প্রাণের মাঝে আয়।”

পুনর্মিলনী সফল হোক, পুনর্মিলনী কমিটিতে যারা আছে,কাজ করে যাচ্ছে বিগত কয়েক মাস ধরে, তাদের কে অসংখ্য ধন্যবাদ । আপনাদের সম্মিলিত প্রচেস্টার জন্যই এটা সফলতার মুখ দেখতে যাচ্ছে।অনাবিল শুভ কামনা হাজার মাইল দুর থেকে।

ইসমাত ইয়াসমিন: প্রাক্তন ছাত্রী, মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, বর্তমানে থাইল্যান্ড প্রবাসী

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2020
IT & Technical Support : BS Technology