আজ, সোমবার | ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | রাত ১:৪৮

ব্রেকিং নিউজ :
নাজির আহমেদ কলেজের শিক্ষক মাসুদুর রহমানের স্মৃতিচারণে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন অনুনমোদিত আয়ূর্বেদিক ঔষধসহ ৩ জনকে আটকের পর কারখানা সিলগালা করেছে র‌্যাব-এনএসআই মাগুরায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক সন্তোষ দত্ত স্মরণে বস্ত্র বিতরণ মানিলন্ডারিং প্রতারক চক্রের হোতা ছানোয়ার গ্রেপ্তার শালিখায় দুস্থ শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ও আইটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন মাগুরায় শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে শিশু একাডেমির আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী মাগুরায় শেখ রাসেলের জন্মদিনে যুবলীগের পক্ষ থেকে শিশুদের জন্যে জরুরী ঔষধ ও খাবার বিতরণ মাগুরায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোস্টাল ইডি কর্মচারিদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেখ রাসেলের শুভ জন্মদিন
সাবেক মন্ত্রী নাসিমের মৃত্যুতে শালিখা উপজেলা  আ’ লীগের শোক প্রকাশ

সাবেক মন্ত্রী নাসিমের মৃত্যুতে শালিখা উপজেলা  আ’ লীগের শোক প্রকাশ

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের মৃতুতে গভীর শোক জানিয়েছেন মাগুরার শালিখা উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।

শনিবার শালিখা উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট শ্যামল কুমার দে এবং সাধারণ সম্পাদক আরজ আলি বিশ্বাসের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়।

শোক বার্তায় জানানো হয়, জননেতা মোহাম্মদ নাসিম এমপি জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সুযোগ্য পুত্র। তিনি সাবেক সফল মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ১৪ দলের মুখপাত্র হিসেবে বিগত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন দেশপ্রেমিক ও জনমানুষের নেতাকে হারালো। তার মৃত্যুতে জাতীয় রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের উন্নয়নে তিনি যে অবদান রেখেছেন দেশবাসী তা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বলে শোক বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

এড.শ্যামল কুমার দে এবং আরজ আলি বিশ্বাস তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১ জুন ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ৪ জুন তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোক করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। এরপর দুই দফায় ৭২ ঘণ্টায় করে পর্যবেক্ষণে রাখে মেডিকেল বোর্ড। এর মধ্যেই পরপর তিনবার নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি তার শরীরে।

মোহাম্মদ নাসিম জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জে। মোহাম্মদ নাসিম ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজনীতির মাঠে রেখেছেন বাবার মতোই সাহসী ভূমিকা।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হওয়ার কারণে কারাগারে ঘাতকের বুলেটে প্রাণ দিতে হয়েছিল বাবা মনসুর আলীর। এরপর বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে রাজনীতি করেছেন নাসিমও।

ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। বিভিন্ন আন্দোলনে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পিতার মতো তিনিও দেশের রাজনীতিতে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র।

ছাত্ররাজনীতি ছাড়ার পরে যুবলীগের রাজনীতি করলেও ১৯৮১ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মোহাম্মদ নাসিম। ওই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের যুব সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৭ সালের সম্মেলনে তিনি দলের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন।

২০০২ সালের সম্মেলনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছিলো একটি। আর ওই সম্মেলনে বিভাগওয়ারী সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিমকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পালনে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন।

পরে ২০০২ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে তাকে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য পদে রাখা হয়। এরপর ২০১২ সালের সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন।

রাজনৈতিক মাঠে সুবক্তা হিসাবে পরিচিত মোহাম্মদ নাসিম ভোটের রাজনীতিতেও সফল হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সিরাজগঞ্জ- ১ সংসদীয় আসন (কাজীপুর) থেকে পাঁচবার বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে তাকে স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়।

২০১৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ১/১১ সরকারের দেয়া মামলার কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ওই নির্বাচনে তার সন্তান তানভীর শাকিল জয়কে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। বিজয়ী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে।

রাজনৈতিক জীবনে মোহাম্মদ নাসিম বিভিন্ন সরকারের সময় জেল, জুলুম ও নির্যাতন ভোগ করেছেন। পাকিস্তানের স্বৈরশাসন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ স্বাধীন বাংলাদেশে সকল সামরিক ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। দেশের সকল অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অংশ নেন। রাজনৈতিক দুরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার কারণে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আস্থাভাজন।

সারাবিশ্বে এখন করোনাভাইরাসের সংকট চলছে। বাদ নেই বাংলাদেশও। মোহাম্মদ নাসিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় করোনাকালে সিরাজগঞ্জে মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। সরাসরি মানুষের খোজ নিয়েছেন। কিন্তু দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিম অসময়ে চলে গেলেন। তবে তিনি এদেশের মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। বেঁচে থাকবেন দেশের রাজনীতিতে। কারণ তিনি রাজনীতিতে কিংবদন্তি ছিলেন। তার মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ৷ তিনি কখনোই অপশক্তির কাছে মাথা নথ করেননি।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2020
IT & Technical Support : BS Technology