আজ, রবিবার | ২৪শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং | রাত ২:১৫

ব্রেকিং নিউজ :
পিএসসিতে নিয়োগ পেলেন মাগুরার সন্তান ডা. উত্তম কুমার মাগুরায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের হুইল চেয়ার ও হিয়ারিং এইড বিতরণ মাগুরায় এসএসসি বন্ধন-২০০১ এর কম্বল বিতরণ সকল শিক্ষা ফি মওকুফের দাবি জানিয়েছে মাগুরা ছাত্রফ্রন্ট ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসকের প্রেস ব্রিফিং মাগুরায় করোনা মোকাবেলায় প্রবাসী যুবলীগ নেতা রফিকুল হককে সংবর্ধনা মাগুরা প্রেসক্লাবে শীতার্ত অসহায় মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ মাগুরায় আওয়ামীলীগ সভাপতি তানজেল হোসেন খানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মাগুরায় ১১৫ ভুমিহীন পাচ্ছে নতুন ঘর মাগুরা আওয়ামীলীগ সভাপতি তানজেল হোসেন খানের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দলীয় কর্মসূচি গ্রহণ

৭ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় মাগুরা

জাহিদ রহমান/ আবু বাসার আখন্দ : ৬ ডিসেম্বর যশোর শহর পাক হানাদার মুক্ত হয়। এর পরের দিনই ৭ ডিসেম্বর তত্কালীন মাগুরা মহকুমা পাক হানাদার মুক্ত হয়। এদিন যশোরের ধারাবাহিকতায় পাকসেনাদের উপর তীব্র চাপ তৈরি করে মেজর চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন ভারতের মিত্রবাহিনী। মিত্রবাহিনীর পাশে এসে যৌথ আক্রমণকে আরও তীব্র করে আকবর হোসেনের নেতৃত্বাধীন শ্রীপুর বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সাহসী মুক্তিযোদ্ধা।

এ ছাড়াও মাগুরা শহরের খোন্দকার মাজেদ-এর নেতৃত্বাধীন হাজীপুর বাহিনী, মহম্মদপুরের ইয়াকুব হোসেনের নেতৃত্বাধীন বাহিনী, আবুল খায়েরের নেতৃত্বে মুজিববাহিনী এবং শহরের আশেপাশের বিভিন্ন গেরিলা গ্রুপে পাকহানাদারদের মাগুরা থেকে পিছু হটাতে নিজ নিজ এলাকাতে বিশেষ সাহসী ভুমিকা পালন করে। ৮ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর প্রচন্ডরকম বিমান হামলায় একেবারে নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে পাকবাহিনী। আকাশ ও স্থল দুপথেই পরাজিত হয় পাকবাহিনী। ফলে আস্তানা বা ক্যাম্প ফেলে দ্রুতই তাদেরকে পালাতে হয়। পাকবাহিনীর অনেক সদস্য দলছুট হয়ে বিভিন্ন গ্রামেও ঢুকে পড়ে। অনেক জায়গাতে তারা সাধারণ জনগণের হাতে ধরা পড়ে। ৮ ডিসেম্বর গোটা মাগুরার কর্তৃত্ব গ্রহণ করে মুক্তিসেনারা।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সেনা জেনারেল আনসারীর নেতৃত্বে তত্কালীন যশোর অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল নবম ডিভিশন। এ ছাড়া পাকসৈন্যদের ১০৭ ব্রিগেড যশোরে এবং ৫৭ বিগ্রেড ঝিনেদা-মাগুরাতে মোতায়েন করা হয়েছিল। ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত-পাক সীমান্তে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ধারাবাহিকতায় ৩ ডিসেম্বর ফোর্ট উইলিয়ামস থেকে সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩ তারিখ রাতেই ভারতীয় বাহিনী চতুর্দিক থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। ভারতের নবম ডিভিশন যশোর হয়ে ঢাকা হাইওয়েতে ঢুকে পড়ে। চতুর্থ ডিভিশন মেহেরপুরকে পাশ কাটিয়ে ছুটে চলে কালিগঞ্জ ঝিনেদার দিকে। পাক নবম ডিভিশনের সদর দফতর ছিল যশোর ক্যান্টনমেন্টে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু হওয়ার আগেই পাকসেনাদের সদর দফতর মাগুরার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ৫ ডিসেম্বর পাকসেনারা বুঝতে পারে যশোর দুর্গ কোনোভাবেই রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ৬ তারিখ সন্ধ্যা হতে না হতেই তাই পাকবাহিনীর সব সৈন্য যশোর ক্যান্টমেন্ট ত্যাগ করে।

এদিন সকাল ও দুপুরে পাকিস্তানের নবম ডিভিশনের সঙ্গে ভারতীয় নবম পদাতিক ও চতুর্থ মাউন্টেন ডিভিশনের প্রচন্ড লড়াই হয়। বেনাপোল অঞ্চলে দায়িত্বরত লে. কর্ণেল শামসকে নওয়াপাড়ার দিকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার হায়াত। নিজের ব্রিগেড নিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে হায়াত নিজে পালান খুলনার দিকে। পালানোর সময় ৫ ও ৬ ডিসেম্বর শহরতলীর রাজারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে তাদের মুখোমুখি লড়াই হয়। ৬ ডিসেম্বর বিকেলে মিত্রবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বারাতের নেতৃত্বে মিত্র ও মুক্তিবাহিনী যশোর সেনানিবাসে ঢুকে তা দখলে নেয়।

এর আগে ৪ ডিসেম্বর শ্রীপুর বাহিনী তথা আকবরবাহিনীর অধিনায়ক আকবর হোসেনের কাছে মিত্র বাহিনী মাগুরাতে পাকবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে একটি মানচিত্র চেয়ে পাঠায়। আকবর বাহিনীর রেকি সারঙ্গদিয়ার আব্দুল ওহাব জোয়ার্দার ওরফে বাঁশী মিয়াকে দিয়ে মানচিত্র তৈরি করে ক্যাপ্টেন আব্দুল ওয়াহ্হাবের কাছে পাঠানো হয়। ম্যাপ অনুযায়ী মিত্রবাহিনী আকাশপথে মাগুরার ওয়ারলেসের পাশে বোমা ফেলে। এই আক্রমণে বিপুল সংখ্যক পাকসেনা নিহত হয়। মিত্রবাহিনীর তুমুল আক্রমণে পাকবাহিনী হতাশ হয়ে পড়ে এবং শহর ছেড়ে পালাতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর শ্রীকোলে ৩ জন পাকসেনা শ্রীপুর বাহিনী তথা আকবর বাহিনীর মুক্তিসেনাদের হাতে ধরা পড়ে।

বিজয়ের নেশায় আকবর বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা মাগুরার দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। কিন্তু মিত্রবাহিনী ও পাকবাহিনীর আক্রমণের আশঙ্কায় আকবর হোসেন মিয়া তার বাহিনীকে শহরের পাশেই নিজনান্দুয়ালী গ্রামে অবস্থানের নির্দেশ দেন। এদিকে বিভিন্ন পয়েন্টে মিত্রবাহিনী ও শ্রীপুর বাহিনীর আক্রমণে পাকবাহিনী পারনান্দুয়ালী গ্রাম ছাড়াও নিকটস্থ বেলনগর গ্রামেও আশ্রয় নেয় এবং মাঝে মাঝে মর্টার ফায়ার দিতে থাকে। পারনান্দুয়ালীর মুন্সীপাড়ার বাটুল মিয়ার মাধ্যমে পাক-মেজরের কাছে আকবর হোসেন মিয়া আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। কিন্তু সাধারণ সিপাহীরা আত্মসমর্পণ করতে চাইলেও অফিসাররা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে। এমনকি একজন মেজর বলেন, ‘পাকসেনারা আত্মসমর্পণ করতে জানে না।’

৭ ডিসেম্বর ভোরে আকবর বাহিনী ও হাজীপুর বাহিনীর বীরযোদ্ধা এবং আশেপাশের মুক্তিযোদ্ধারা মাগুরা শহরে প্রবেশ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের দেখে শহরের লোকেরা ফেলে যাওয়া বাড়িতে ফিরে আসতে শুরু করে। এদিকে আকবর হোসেন মিয়া এবং নবুয়ত মোল্লা তাদের বাহিনীর যোদ্ধাদের বিভিন্ন জায়গায় নিজ নিজ কমান্ডারের নেতৃত্বে শক্তিশালী অবস্থানের নির্দেশ দেন এবং দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করে দেন। মাগুরা স্লুইচ গেটের কাছে ও তার আশপাশে মজবুত ব্যুহ তৈরি করা হয়, যাতে পাকবাহিনী মাগুরা ঢুকতে না পারে। বিকাল পাঁচটা থেকে মিত্রবাহিনী পিটিআই এর নিকট অবস্থান গ্রহণ করে। ৮ ডিসেম্বর ভোরে আকবর হোসেন মিয়া আব্দুল লতিফকে সঙ্গে নিয়ে মেজর চক্রবর্তীর কাছে যান এবং সেখানে গিয়ে দেখেন মেজর চক্রবর্তী প্রস্তুত। তিনি ও আকবর হোসেনসহ উপস্থিত অন্যান্য যোদ্ধারা সবাই ট্যাঙ্কে উঠেন। ট্যাঙ্ক বাহিনী এগিয়ে পারনান্দুয়ালী দিয়ে অগ্রসর হতে থাকেন। এদিকে জীবন বাঁচাতে পাকসেনারা কামারখালি ফেরিঘাটের দিকে চলে যায়। এভাবেই মাগুরা থেকে পাকহানাদাররা পিছু হটতে থাকে। শত্রুমুক্ত হয় মাগুরা।

গোটা মাগুরা মহকুমাকে শত্রু মুক্ত করতে আকবর হোসেনের নেতৃত্বাধীন বাহিনী, মাগুরা শহরের শিবরামপুর এলাকার খোন্দকার মাজেদের নেতৃত্বাধীন মাজেদ বাহিনী, মহম্মদপুরের গোলাম ইয়াকুবের নেতৃত্বাধীন ইয়াকুব বাহিনী, আবুল খায়েরের নেতৃত্বে মুজিববাহিনী এবং বিভিন্ন গেরিলা গ্রুপ বিশেষ সাহসী ভুমিকা পালন করে। তবে ৭ ডিসেম্বর মুক্ত মাগুরার সাথে অধিনায়ক আকবর হোসেন এবং মোল্লা নবুয়ত আলী-এই দুটি নাম চির স্মরণীয় হয়ে আছে।

তবে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট আলোচনায় মাগুরার স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্বীকার করতে গেলে সংগ্রাম কমিটি বা সংগ্রাম পরিষদের কথা উল্লেখ করতে হবে। যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশের তত্কালিন সকল জেলা ও মহকুমায় সর্বস্তরের ব্যাক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হয় সংগ্রাম কমিটি। যার অংশ হিসেবে মাগুরায় স্থানীয় গণপরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয় সংগ্রাম কমিটি। তত্কালীন এমএনএ সোহরাব হোসেন এবং এমসিএ সৈয়দ আতর আলিকে উপদেষ্টা করে গঠিত এ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন এডভোকেট আছাদুজ্জামান এমসিএ। কমিটির অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন বগিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ তৈয়বুর রহমান, টুপিপাড়া গ্রামের চেয়ারম্যান আকবর হোসেন মিয়া, আলতাফ হোসেন, সৈয়দ মাহবুবুল হক বেনু মিয়া, বেলনগর গ্রামের আবদুল ফাত্তাহ, এডভোকেট আবুল খায়ের, এসএ সিদ্দিকি বেবি, আফসার উদ্দিন মৃধা, আবদুল জলিল সরদার প্রমুখ।

সংগ্রাম কমিটি গঠনের পর তারা ঢাকার ঘোষণা অনুযায়ি মাগুরাতেও অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে এবং ৩ মার্চ মাগুরায় সফল হরতাল পালন করে। সর্বদলিয় সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক আছাদুজ্জামান অন্যতম দুই উপদেষ্টা আতর আলি এবং এড. সোহরাব হোসেনের সহযোগিতায় ২৫ মার্চ পর্যন্ত এ অসহযোগ আন্দোলন অব্যহত রাখেন।

এ সময় তারা মাগুরা শহরের নোমানি ময়দানস্থ আনসার ক্যাম্পের টিনের ঘরটিকে তাদের প্রধান কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করতে থাকেন। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণেচ্ছু ছাত্র জনতাকে সংঘটিত করে নোমানি ময়দান, পারনান্দুয়ালি শেখপাড়া আমবাগান, ওয়াপদা, সদর উপজেলার কাটাখালি ব্রিজের পাশে সহ বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় হাবিলদার সাজাহান, কামরুজ্জামান (শৈলকুপা), হারেসার, জাহিদুল ইসলাম মিটুল, আকবর হোসেন মিয়া, জাহিদুল ইসলাম (বেলনগর), আবদুল ওয়াহেদ মিয়া (পারনান্দুয়ালি), আবদুল মান্নান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।

মাগুরার বিভিন্ন কলেজ থেকে ছাত্র ও যুবকসহ আগ্রহী অনেকেই নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে থাকে। শহরের জেলা পাড়ায় খুদিরাম সাহার আমবাগানের নির্জন স্থানে তৎকালিন মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের বাবলুর তত্ত্বাবধানে হাতবোমা ককটেল তৈরি করা হয়। এসব বিস্ফোরক ও পুলিশ লাইনের অস্ত্রসজ্জিত বাহিনী ক্রমেই শক্তিশালী হতে থাকে।

এদিকে ৪ এপ্রিল তাজুদ্দিন আহম্মেদ এবং ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ভারতে যাওয়ার পথে মাগুরায় সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। পরে ওইদিন রাতেই সংগ্রাম কমিটির সদস্যরা তাদেরকে মাগুরা থেকে ভারতের পথে এগিয়ে দিয়ে আসে। এ দিনেই মাগুরা-যশোর সড়কের লেবুতলায় সুবেদার আবদুল মুকিতের নেতৃত্বে মাগুরা সংগ্রাম কমিটির সাথে পাক বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

মাগুরার সংগ্রাম কমিটি বিশাল প্রতিরোধ ব্যবস্থা অব্যহত রাখলেও ২২ এপ্রিল সোমবার দুপুরে পাক সেনাবাহিনী বিশাল ট্যাঙ্ক বহর নিয়ে ঝিনাইদহ ও যশোর সড়ক দিয়ে মাগুরা সীমানায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এদিন মাগুরার আলমখালি বাজার এলাকায় সুরেন বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে পাক সেনারা গুলিতে নিহত করে এবং পরদিন ২৩শে এপ্রিল মঙ্গলবার জয় বাংলা শ্লোগান দেওয়ায় পাক সেনাবাহিনী বাগবাড়িয়া গ্রামের লালু পাগলা নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে।

পরবর্তী সময়ে হানাদাররা শহরের পিটিআই, ভিটিআই, সিও অফিস (বর্তমান উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর), মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নিউ কোর্ট বিল্ডিং, মাইক্রোওয়েভ স্টেশন ও মাগুরা সরকারি কলেজে তাদের ক্যাম্প স্থাপন করে। শহরের মধুমতি ডাক বাংলোটিকে তারা হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাতে থাকে। পিটিআই স্কুলে প্রবেশ পথের ডান পাশে একটি ঘরকে তারা নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে।

পরদিন ২৪শে এপ্রিল মাগুরা ভিটিআইসহ অন্যান্য স্থানে পাকসেনারা ক্যাম্প স্থাপন করে। এদিন বিকেলে পাকসেনারা মাগুরা শহরের নুতন বাজার এলাকায় কয়েকটি পাটের গুদামে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সন্ধার প্রাক্কালে ৪/৫ খানা খোলা জীপ এসে থামে মাগুরা থানার অদুরে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জগবন্ধু দত্তের বাড়ীর সামনে। বর্তমান প্রধান ডাকঘর ও সৈয়দ আতর আলি সড়ক সংলগ্ন ঐ বিশাল বাড়িতে তখন জগবন্ধু দত্ত একা ছিলেন। সেনা সদস্যরা বাড়ীর মধ্যে ঢুকে উঠানে গুলি করে জগবন্ধু দত্তকে হত্যা করে ঘর থেকে থলে ভর্তি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ সময় ওই লুটপাটে অংশ নেয় মাগুরা শহরের নবগঙ্গা নদী তীরবর্তি অঞ্চলে বসবাসরত পাকবাহিনীর চিহ্নিত দোসরেরাও। এভাবেই পাকসেনারা এবং তাদের সহায়তায় মাগুরায় হত্যা, লুট ও ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা হয়।

পাকবাহিনী স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধীদের চিহ্নিত করে শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠন করে তাদের যোগসাজসে নারকীয় হত্যাযজ্ঞসহ বর্বর হামলা আক্রমন চালিয়ে যেতে থাকে। পাক মেজর হায়াত এবং মাগুরার রিজু, কবির, পীর ওবায়দুল্লাহ, বাশি চেয়ারম্যান ও আয়ুব চৌধুরীদের সেই সময়কার পৈচাশিক হত্যযজ্ঞ ও বিভিষিকার কথা মাগুরার মানুষের মনে এখনো জ্বলজ্বল করে।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2020
IT & Technical Support : BS Technology