আজ, মঙ্গলবার | ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ভোর ৫:১৫


মাগুরায় মহিলা অ্যাথলেট তৈরিতে নিবেদিত তরুণ মোতাসসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক : তরুণ অ্যাথলেট মো. মোতাসসিন বিল্লাহ। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে। অ্যাথলেট হিসেবে খুলনা বিভাগ এবং নিজ বিশ্ববিদ্যালয় আঙ্গিনায় ঢের পরিচিত।

২০১৪ সালে খুলনাতে ১০০ মিটার স্প্রিন্টারে বিভাগীয় পর্যায়ে লড়াই-এ অংশ নিয়ে স্বর্ণ জিতেছিলেন এই তরুণ। এখন মাগুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারী অ্যাথলেট তৈরির স্বপ্নে বিভোর। আর এ লক্ষ্যেই মাগুরার শালিখা উপজেলার বুনোগাতিতে একটি ছোট্ট একাডেমিও গড়ে তুলেছেন তিনি।

মোতাসসিনের বাড়ি নড়াইলের মাইঝপাড়াতে। তবে নারী অ্যাথলেট তৈরির স্বপ্ন বুকে নিয়ে মাগুরার শালিখা উপজেলার বুনোগাতিতে খানিকটা স্থায়ী হয়েছেন। একেবারে নিজস্ব উদ্যোগেই বুনোগাতিতে গড়ে তুলেছেন ‘দূরন্ত স্পোর্টস উইমেন একাডেমি’। মাগুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অস্বচ্ছল পরিবারের মেয়েদের খেলাধূলায় আগ্রহী করতে এই তরুণ একাডেমি তৈরি করেছেন।

মোতাসসিনের ইচ্ছে তৃণমূলের মেয়েদের ফুটবলার, ক্রিকেটার, হ্যান্ডবল খেলোয়াড় এবং অ্যাথলেট হিসেবে গড়ে তুলবেন তিনি। এই স্বপ্ন ধরেই এই তরুণ একাই এগিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তার একাডেমিতে প্রায় অর্ধশতাধিক কিশোরী বিভিন্ন বিভাগে এনরোলমেন্ট হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। প্রতিদিন তাঁরা মোতাসসিনের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করেন।

কিশোরী প্রীতিলতা, বর্ষা, ইভা, সুমাইয়া, লাবনীসহ আরও অনেকেই তার শিক্ষার্থী। মোতাসসিন জানিয়েছেন এরকম আরও অনেকেই রয়েছেন। শালিখার বাইরে আরও দূর দূরান্ত গ্রাম থেকেও অনেক কিশোরী তাঁর একাডেমিতে এনরোল করেছেন। এ বছর বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসে হ্যান্ডবল লড়াই-এ মাগুরা জেলা দলের যে টিম অংশগ্রহণ করে তার সবগুলো খেলোয়াড়-ই মোতসসিনের হাতে গড়া। বাংলাদেশ গেমসে পুলিশ ও জামালপুরের বিরুদ্ধে খেলেছিল মাগুরা জেলা নারী হ্যান্ডবল দল। ভাল ফলাফল না করতে পারলেও মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ের লড়াই থেকে বড় ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছেন।

প্রতিদিনই মোতাসসিন সিডিউল অনুযায়ী মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেন। খেলাধুলোর বেসিক কলাকৌশল আয়ত্বে নিতে বিভিন্ন ধরনের অনুশীলন করান।

মোতাসসিন জানিয়েছেন, একেবারে নিজস্ব চিন্তা থেকেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর ইচ্ছে মাগুরার গ্রামেগঞ্জে লুকিয়ে থাকা প্রতিভার বিকাশ ঘটানো।

তাঁর মতে, গ্রামেগঞ্জে অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে সেই প্রতিভাগুলো খুঁজে বের করতে পারলে এদেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে। মোতাসসিন আরও বলেন, খেলাধূলা আমাদের ঐতিহ্যগত। কিন্তু সঠিক উদ্যোগের অভাবে অনেকেই খেলাধূলোতে সম্পৃক্ত হতে চায় না। এ ছাড়া বর্তমানে বহুবিধ কারণে খেলাধূলোর সুযোগ কমে আসার কারণে কিশোর-কিশোরীরা মোবাইল নির্ভর হয়ে পড়ছে। এই বৃত্ত থেকে বের করে আনতে হলে তৃণমূলে খেলাধূলোর প্রসার ঘটাতে হবে।

মাগুরা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা অনামিকা দাস এই তরুণের উদ্যোগ সম্পর্কে ফোনে বলেন, ‘এটি খুবই ভাল উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগে আমরা অবশ্যই সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাই। তরুণ মোতাসসিনের একাডেমির কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2021
IT & Technical Support : BS Technology