আজ, সোমবার | ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | রাত ১২:২০

ব্রেকিং নিউজ :

মহম্মদপুরে অসহায় ভাতাভোগীদের টাকা যাচ্ছে কাদের নম্বরে

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : মাগুরার মহম্মদপুরে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী সহ অন্যান্য ভাতাভোগিদের টাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বরের নগদ একাউন্টে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এ উপজেলার অন্তত ২শত অসহায় ভাতাভোগী দারুন ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ভাতার উপকারভোগিরা সাধারণত বয়স্ক শ্রেণীর। আগে এসব ভাতার অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাধ্যমে দেওয়া হতো। অতিতের দূর্ভোগ কমিয়ে আনতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদের মাধ্যমে টাকার ভাতাভোগীদের অর্থ নগদ একাউন্ট নাম্বারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে একজন ভাতাভোগী ঘরে বসেই টাকা তোলার সুযোগ পাবে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ভাতাভোগীদের অনেকের অর্থ নিজেদের মোবাইল একাউন্টের পরিবর্তে চলে যাচ্ছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বরের অনুকুলে খোলা নগদ একাউন্টে। এমন ঘটনার শিকার অনেক অসহায় মানুষেরা প্রতিদিনই সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে ভিড় করলেও পাচ্ছেন না কোনো প্রতিকার।

ভূক্তভোগীদের একজন চরপাঁচুড়িয়া গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগী মান্নান শেখ। তিনি বলেন, আমার নম্বর দেওয়া ছিল ০১৭৫৫৩৬৫৬০৭। কিন্তু আমার ৬ হাজার টাকা চলে গেছে ০১৭৮০৮৬৭৫৯৭। এই নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সামনে ঈদ। এখন কী করবো জানি না।

একই রকম অভিযোগ প্রতিবন্ধী সাজ্জাদ হোসেন মিজানের। তিনি বলেন, ভাতার জন্যে তিনি ০৯১২৫৩৬৮৩৭ নম্বরটি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাতার ৬৭৬৫ টাকা চলে গেছে ০১৯২০২৩১৩০৮ নাম্বারে।

৯০ বছর বয়সি ইঙ্গুল বড়ু।  দুটি সন্তান থাকলেও তারা খাবার না দেয়ায় অন্যের বাড়ি থেকে খাবার চেয়ে খেতে হয় তাকে। কিনতে অসুস্থ্যতার জন্যে ঔষধ প্রয়োজন। কিন্তু নগদ একাউন্ট খুললেও টাকা পাননি বলে সমাজসেবা অফিসের বারান্দায় বসে আছেন। কিন্তু সেখানে কারো সাহায্য পাননি তিনি।

এমনতর অভিযোগ আরো অনেকের। অতিতে টাকা তুলতে কষ্ট হলেও পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন আরও বড় সমস্যা। এক জনের টাকা চলে যাচ্ছে অন্যের কাছে। আবার সেই টাকা সেখান থেকে ফেরত পাওয়ারও সুযোগ নেই হবে তারা জানান।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ২০ হাজার ২৮ জন ভাতাভোগির মধ্যে ১১ হাজার ৩৮ জন বয়ষ্ক ভাতা, ৫ হাজার ৬৩৩ জন বিধবা ভাতা ও ৩ হাজার ৩৫৭ জন অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়ে থাকেন। বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মাসে ৭৫০ টাকা এবং বিধবা ও বয়স্ক ভাতাভোগিরা পেয়ে থাকেন প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে। কিন্তু এ উপজেলার অধিন বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ২শত ভাতাভোগির টাকা অজ্ঞাত নাম্বারে টাকা চলে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জয়নুল আবেদীন জানান, মোবাইল নাম্বার দেওয়ার কাজ করেছে মোবাইল ব্যাংকিং বিভাগ নগদ সংশ্লিষ্টরা। তবে যাদের মোবাইল নাম্বার ভূল আছে তাদেরগুলো সংশোধন করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া টাকা না পাওয়া ভাতাভোগিদের তালিকা প্রস্তুত করে উর্দ্ধতন কৃর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2021
IT & Technical Support : BS Technology